ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে বাংলার প্রশাসনিক ভবনগুলি। অতিরিক্ত কাজের চাপের অভিযোগে একদিকে বিএলও-দের (BLO) গণইস্তফা, অন্যদিকে বিভিন্ন জেলায় বিডিও অফিসে নজিরবিহীন হামলা ও অগ্নিসংযোগ—সব মিলিয়ে চরম প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে রাজ্যে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এবার রাজ্যপাল এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
জ্বলছে বিডিও অফিস, পুড়ছে নথিপত্র: এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বিএলও-দের একাংশ। কিন্তু কাজ শেষের দোরগোড়ায় এসে সেই ক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় খোদ বিধায়কের নেতৃত্বে বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায় ঘটে গেল লঙ্কাকাণ্ড। সেখানে বিডিও অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ফলে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসন কার্যত দিশেহারা।
শমীকের নিশানায় রাজভবন ও কমিশন: রাজ্যের এই অরাজকতা নিয়ে সরব হয়ে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, দিল্লি বা রাজভবনে বসে রিপোর্ট পড়ে বাংলার বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়। সরাসরি রাজ্যপালকে নিশানা করে তিনি বলেন, “রাজ্যপাল শুধু রাজভবনে বসে থাকলে হবে না। একটু রাস্তায় বেরিয়ে আসুন, রাজ্যের পরিস্থিতি দেখুন।”
শমীকের বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলি:
কমিশনের ব্যর্থতা: ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণে সহযোগিতা করা বিজেপির লক্ষ্য, কিন্তু বিএলও-রা আক্রান্ত হলে বা পদত্যাগ করলে কমিশন কেন চুপ? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সাংবিধানিক সংকট: যদি নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি সামলাতে অপারগ হয়, তবে রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতিকে এর দায়ভার নিতে হবে।
সরাসরি চ্যালেঞ্জ: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও একহাত নিয়েছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “ঠাণ্ডা ঘরে বসে না থেকে বাংলায় আসুন, মানুষের সঙ্গে কথা বলুন।”
সংকটে ভোটার তালিকা: তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে মৃতদের নাম তালিকায় রাখার যে অভিযোগ বারংবার উঠছে, বিএলও-দের এই গণইস্তফা সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল। এখন দেখার, শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া বার্তার পর নির্বাচন কমিশন বা রাজভবন মাঠপর্যায়ে কোনো কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।





