রাজ্যে নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) কালো মেঘের মাঝে অবশেষে দেখা দিল আশার আলো। বারাসাতের নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আক্রান্ত পুরুষ নার্স ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এতদিন কোমায় থাকলেও বর্তমানে তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন এবং তাঁকে ভেন্টিলেটর থেকে বের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দাদরা ও নগর হাভেলি থেকে আনা বিশেষ অ্যান্টিভাইরাল ইনজেকশন কাজ শুরু করেছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।
মহিলা নার্সের অবস্থা ও কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং: পুরুষ নার্সের শারীরিক উন্নতি হলেও, আক্রান্ত মহিলা নার্সের অবস্থা এখনো অপরিবর্তিত। উল্লেখ্য, নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ঘুঘরাগাছি গ্রাম থেকে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ওই গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে কাঁচা খেজুরের রস বা গুড় খেয়েছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞ দল। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে বর্তমানে আরও এক চিকিৎসক ও নার্স আইসোলেশনে রয়েছেন, তবে তাঁদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।
নদিয়ায় স্বস্তির রিপোর্ট: স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে এক বিরাট সুখবর মিলেছে। নদিয়া থেকে যে ৪৫ জনের নমুনা কল্যাণী AIIMS-এ পাঠানো হয়েছিল, তাঁদের প্রত্যেকের রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে। এর ফলে নিপা গোষ্ঠী সংক্রমণের (Community Transmission) আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া আক্রান্ত নার্সদের সংস্পর্শে আসা অন্য পাঁচ স্বাস্থ্যকর্মীর রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খেজুরের গুড় বা পাটালিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে কাঁচা খেজুরের রস কোনোভাবেই খাওয়া চলবে না। কারণ বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এই মারণ ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম হলো এই কাঁচা রস। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সহযোগিতায় কাজ করছে রাজ্য।