রাজ্যজুড়ে বর্তমানে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা SIR (Summary Integral Revision)-এর শুনানি পর্ব। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব—সকলকেই বিডিও অফিসে তলব করা হচ্ছে। কিন্তু এই শুনানিতে গিয়ে কোন নথি দেখালে নাগরিকত্ব বা ভোটার হওয়ার প্রমাণ মিলবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি কাটছিল না। এবার সেই ধোঁয়াশা কাটাতে বড় ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড এখন থেকে আর বৈধ নথি হিসেবে গণ্য হবে না।
অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে কেন এই কড়াকড়ি? অনেকের কাছেই পুরনো বা সঠিক নথি নেই। বিশেষ করে যারা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে ফর্ম ফিলআপ করতে সমস্যায় পড়েছিলেন, তাঁদেরই এখন শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এতদিন অনেকেই বয়সের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড সঙ্গে রাখতেন। কিন্তু বৃহস্পতিবারের বিবৃতির পর সেই রাস্তা বন্ধ হলো। ফলে রাতারাতি সংকটে পড়েছেন বহু মানুষ। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, ১৩টি নির্দিষ্ট নথির মধ্যে যে কোনো একটি থাকলেই শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
কোন কোন নথি নিয়ে যাবেন শুনানিতে? কমিশন জানিয়েছে, আধার কার্ড শুনানির ক্ষেত্রে গ্রাহ্য হবে না। তার বদলে নিচের নথিগুলির যে কোনো একটির আসল কপি সাথে রাখতে হবে:
-
১৯৮৭ সালের আগের ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস বা LIC-এর নথি।
-
মাধ্যমিক বা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট (অ্যাডমিট নয়)।
-
বার্থ সার্টিফিকেট বা পাসপোর্ট।
-
জমি বা বাড়ির দলিল এবং পারিবারিক রেজিস্টার।
-
SC/ST/OBC বা ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট।
-
স্থানীয় প্রশাসন প্রদত্ত বাসস্থানের সার্টিফিকেট বা NRC-এর সার্টিফিকেট।