গত ৯ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টে I-PAC মামলার শুনানিতে আইনজীবীদের নজিরবিহীন হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় এবার নতুন মোড়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ইডি (ED) দাবি করেছে, সেই দিনের অশান্তি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের আইনি সেল আগে থেকেই আদালত কক্ষের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল। নিজেদের দাবির সপক্ষে দেশের শীর্ষ আদালতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে কী ছিল? ইডি-র পক্ষ থেকে ‘লিগ্যাল মাইন্ডস’ নামক একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাট প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, “সবাই আইটেম নম্বর ৫-এর সময় ১০ নম্বর এজলাসে জড়ো হন।” শুধু তাই নয়, ইডি-র অভিযানের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে সমাবেশের ডাকও দেওয়া হয়েছিল ওই গ্রুপে। বার্তায় লেখা ছিল, বি গেটে জমায়েতের জন্য বাস ও গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সেদিন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলার সঙ্গে যুক্ত নন এমন অনেক আইনজীবীর উপস্থিতি এবং তুমুল বাদানুবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারপতি এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ: এদিকে, আজ সুপ্রিম কোর্টে I-PAC মামলার শুনানিতে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য। আই-প্যাক অফিসে তল্লাশি চালানো ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ যে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিল, তাতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। আইনের শাসন বজায় রাখতে এবং তদন্তকারী সংস্থাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে আপাতত স্বস্তিতে ইডি আধিকারিকরা।