বর্তমান সময়ে ফিটনেস নিয়ে সচেতনতা তুঙ্গে। জিম যাওয়া হোক বা ঘরোয়া ডায়েট—সবখানেই এখন একটাই আলোচনা, ‘প্রোটিন’। নিরামিষাশীদের বিকল্প সীমিত হলেও আমিষভোজীদের পছন্দের শীর্ষে থাকে ডিম ও মুরগির মাংস। কিন্তু পুষ্টির বিচারে লড়াইটা যখন সেয়ানে সেয়ানে, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—সেরার সেরা কোনটি?
ডিমের ম্যাজিক: সস্তায় পুষ্টির ভাণ্ডার
একটি বড় সেদ্ধ ডিমে সাধারণত ৬ থেকে ৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। তবে ডিমের বিশেষত্ব হলো এর ‘বায়োলজিক্যাল ভ্যালু’। চিকিৎসকদের মতে, ডিম একটি সম্পূর্ণ প্রোটিন কারণ এতে শরীরের প্রয়োজনীয় ৯টি অ্যামিনো অ্যাসিডই উপস্থিত। প্রোটিন ছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন-ডি, বি১২ এবং কোলিন, যা মস্তিষ্ক ও হাড়ের জন্য অপরিহার্য।
মুরগির মাংস: পেশি গঠনের ‘সুপারফুড’
আপনি যদি বডিবিল্ডিং বা দ্রুত ওজন কমানোর লক্ষ্য রাখেন, তবে মুরগির বুকের মাংস (Chicken Breast) আপনার সেরা বন্ধু হতে পারে। প্রতি ১০০ গ্রাম মুরগির মাংসে প্রায় ২৭-৩২ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা সমপরিমাণ ডিমের তুলনায় প্রায় ৪-৫ গুণ বেশি। এতে ফ্যাট কম এবং সেলেনিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ বেশি থাকে।
এক নজরে পুষ্টির তুলনা:
| পুষ্টি উপাদান | ডিম (১টি – প্রায় ৫০ গ্রাম) | মুরগির বুকের মাংস (১০০ গ্রাম) |
| ক্যালোরি | ৭০ – ৭৮ | ১৬৫ – ১৮৭ |
| প্রোটিন | ৬ – ৭ গ্রাম | ২৭ – ৩২ গ্রাম |
| ফ্যাট | ৫ গ্রাম | ৩ – ৪ গ্রাম |
তাহলে কোনটি বাছবেন?
যদি আপনার লক্ষ্য হয় খুব কম ক্যালোরিতে সর্বোচ্চ প্রোটিন গ্রহণ, তবে মুরগির বুকের মাংসই হবে সেরা বিকল্প। অন্যদিকে, যাঁরা সহজলভ্য ও সহজে হজমযোগ্য প্রোটিন খুঁজছেন, তাঁদের জন্য ডিম আদর্শ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো একটির ওপর নির্ভর না করে ডায়েটে দুটিরই ভারসাম্য রাখা উচিত। এতে শরীর বৈচিত্র্যময় পুষ্টি পাবে।
সতর্কীকরণ: আপনার যদি উচ্চ কোলেস্টেরল বা বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে, তবে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।