ছোটবেলা থেকেই আমরা দেখে আসছি ঘড়ির কাঁটা সবসময় বাম দিক থেকে ডান দিকে ঘোরে। একে আমরা ‘ক্লকওয়াইজ’ গতি বলি। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন ঘড়ির কাঁটা উল্টো দিকে অর্থাৎ ডান থেকে বামে ঘোরে না? এর পিছনে কোনো যাদু নয়, বরং লুকিয়ে আছে কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস এবং ভূগোলের এক চমৎকার বিজ্ঞান।
রহস্যের মূলে রয়েছে ‘সূর্যঘড়ি’ (Sundial): মানুষ যখন যান্ত্রিক ঘড়ি আবিষ্কার করেনি, তখন সময় দেখার একমাত্র উপায় ছিল সূর্য। প্রাচীন মিশরের মানুষরা মাটিতে লাঠি পুঁতে ছায়ার অবস্থান দেখে সময় নির্ণয় করত। একেই বলা হতো ‘সানডায়াল’ বা সূর্যঘড়ি।
উত্তর গোলার্ধের প্রভাব: পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে (যেখানে প্রাচীন সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল) সূর্য যখন আকাশ দিয়ে যায়, তখন মাটিতে থাকা লাঠির ছায়া উত্তর থেকে পূর্ব হয়ে দক্ষিণে ঘোরে— অর্থাৎ এটি একটি বৃত্তাকার পথে বাম থেকে ডানে ঘোরে। প্রাচীন মানুষরা ছায়ার এই ঘূর্ণন দেখেই অভ্যস্ত ছিল।
যান্ত্রিক ঘড়িতে ইতিহাসের প্রতিফলন: চতুর্দশ শতাব্দীতে যখন ইউরোপে প্রথম যান্ত্রিক ঘড়ি আবিষ্কৃত হয়, তখন ঘড়ির নির্মাতারা চাইলেন মানুষের চিরচেনা সূর্যঘড়ির সেই নিয়মটিই বজায় রাখতে। যেহেতু ইউরোপ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত, তাই তারা ঘড়ির কাঁটাকে সূর্যঘড়ির ছায়ার গতির সাথে মিলিয়ে বাম থেকে ডানে ঘোরার ব্যবস্থা করেন।
যদি দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ি আবিষ্কৃত হতো? মজার বিষয় হলো, যদি আধুনিক ঘড়ি প্রথম দক্ষিণ গোলার্ধে (যেমন অস্ট্রেলিয়া বা লাতিন আমেরিকা) আবিষ্কৃত হতো, তবে আজ হয়তো ঘড়ির কাঁটা আমরা উল্টো দিকে অর্থাৎ ডান থেকে বামে ঘুরতে দেখতাম! কারণ দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যঘড়ির ছায়া বাম দিকে ঘোরে।
বর্তমান বিশ্বে গুরুত্ব: বর্তমানে এটি একটি বৈশ্বিক মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল সময় নয়, স্ক্রু ঘোরানো থেকে শুরু করে গাণিতিক অনেক হিসেবেও এই ‘ক্লকওয়াইজ’ নিয়মটি মেনে চলা হয়।