বুক জ্বালাপোড়া বা পেটব্যথা হলেই আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই টপাটপ গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে নিই। আপাতদৃষ্টিতে এটি আরামদায়ক মনে হলেও, এই অভ্যাসই আপনার শরীরে ডেকে আনছে চরম বিপর্যয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরস (PPIs) জাতীয় ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে সেবন করলে কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
গবেষণার ভয়াবহ তথ্য:
নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক প্রদীপ অরোরা এবং তাঁর দল প্রায় ৭১ হাজার ৫১৬ জন রোগীর ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষা চালিয়েছেন। সেই গবেষণার ফলাফল বলছে:
গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনকারীদের কিডনি রোগের ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে যায়।
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, এই ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত সেবনের ফলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত।
গবেষকদের মতে, বাজারে অতি পরিচিত পিপিআই জাতীয় ওষুধগুলো দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (Chronic Kidney Disease) তৈরির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ওষুধ ছাড়াই গ্যাস্ট্রিকমুক্ত থাকার ৮ উপায়:
গ্যাস্ট্রিক মূলত পরিপাকতন্ত্রের একটি বিশৃঙ্খলা। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব:
১. রুটিন মেনে চলা: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খান এবং নিয়ম করে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করুন। ২. প্রোবায়োটিক খাবার: ডায়েটে টক দই রাখুন। এটি হজমশক্তি বাড়িয়ে পেটে গ্যাস হতে দেয় না। ৩. প্রাকৃতিক উপাদান: আদা, শসা ও লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে গ্যাসের অস্বস্তি দ্রুত কমে যায়। ৪. ধূমপান বর্জন: সুস্থ পাকস্থলীর জন্য ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। ৫. অল্প অল্প আহার: একবারে পেট ভরে না খেয়ে নির্দিষ্ট সময় পর পর অল্প করে খাবার গ্রহণ করুন। ৬. তেল-চর্বি এড়িয়ে চলা: অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার সরাসরি গ্যাস্ট্রিকের জন্য দায়ী। এগুলো পরিহার করুন। ৭. পর্যাপ্ত ঘুম: নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম হজমপ্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। ৮. মানসিক প্রশান্তি: দুশ্চিন্তামুক্ত ও হাসিখুশি থাকলে পরিপাকতন্ত্রের ওপর চাপ কমে, ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স কমে যায়।
উপসংহার: গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাকে ছোট করে দেখবেন না, আবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার ঝুঁকিও নেবেন না। সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার অমূল্য কিডনি দুটিকে রক্ষা করতে।