হালকা দাগ মানেই কি সুখবর? প্রেগন্যান্সি কিট ব্যবহারের নির্ভুল ফল পাওয়ার সিক্রেট!

লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রতিটি নারীর জীবনে মাতৃত্ব এক অনন্য অনুভূতি। একসময় পিরিয়ড বন্ধ হওয়া, বমি ভাব বা ক্লান্তি দেখে গর্ভাবস্থা আন্দাজ করা হতো। কিন্তু আধুনিক যুগে মাত্র ৫০ টাকার একটি প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। ঘরে বসেই কয়েক মিনিটে নিশ্চিত হওয়া যায় আপনি মা হতে চলেছেন কি না। কিন্তু সাধারণ প্লাস্টিকের এই ছোট স্ট্রিপটি কীভাবে কাজ করে? এর পেছনে থাকা বিজ্ঞানের রহস্য জানেন কি?

কীভাবে কাজ করে এই কিট? প্রেগন্যান্সি কিটের মূল কাজ হলো শরীরে hCG বা Human Chorionic Gonadotropin নামক একটি বিশেষ হরমোন শনাক্ত করা। কোনো নারী গর্ভবতী হলে তাঁর শরীরে এই হরমোন নিঃসরণ শুরু হয়।

  • রাসায়নিক বিক্রিয়া: কিটের স্ট্রিপে এমন কিছু বিশেষ অ্যান্টিবডি বা রাসায়নিক থাকে, যা প্রস্রাবে থাকা hCG-র সংস্পর্শে এলে রং পরিবর্তন করে।

  • কন্ট্রোল বনাম টেস্ট লাইন: স্ট্রিপে দুটি পয়েন্ট থাকে— একটি ‘C’ (Control) এবং অন্যটি ‘T’ (Test)। ‘C’ লাইনটি জ্বলে ওঠার মানে হলো কিটটি ঠিকঠাক কাজ করছে। আর ‘T’ লাইনে রং আসার অর্থ হলো আপনি গর্ভবতী।

রেজাল্ট বোঝার সহজ উপায়: ১. পজিটিভ (Positive): যদি স্ট্রিপে দুটি লাল দাগ (C এবং T) দেখা যায়, তবে বুঝবেন ফলাফল ইতিবাচক। অনেক সময় ‘T’ লাইনে হালকা দাগ আসলেও সেটিকে পজিটিভ হিসেবেই ধরা হয়। ২. নেগেটিভ (Negative): যদি শুধুমাত্র ‘C’ স্থানে একটি দাগ দেখা যায়, তবে তার অর্থ আপনি গর্ভবতী নন। ৩. ইনভ্যালিড (Invalid): যদি কোনো দাগই না পড়ে বা শুধু ‘T’ দাগ আসে, তবে বুঝতে হবে কিটটি নষ্ট। সেক্ষেত্রে নতুন কিট দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা করতে হবে।

সঠিক ফল পেতে যা মাথায় রাখবেন:

  • সেরা সময়: ঘুম থেকে উঠে দিনের প্রথম প্রস্রাব দিয়ে পরীক্ষা করা সবচেয়ে ভালো। কারণ এতে হরমোনের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে।

  • কখন করবেন: সাধারণত পিরিয়ড মিস হওয়ার প্রথম দিন বা তার দুই-এক দিন পর পরীক্ষা করলে নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যায়।

  • দেরি করা ভালো: খুব তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করলে অনেক সময় হরমোনের মাত্রা কম থাকায় রিপোর্ট ভুল আসতে পারে। সেক্ষেত্রে ২-৩ দিন পর আবার পরীক্ষা করে নিন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy