ইউপি-র রাজনীতিতে এবার ‘মেনু যুদ্ধ’! মোদী-যোগীর অস্ত্রেই বিজেপিকে ঘায়েল করতে আসরে অখিলেশ

ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনেই উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে এক অন্যরকম লড়াই প্রত্যক্ষ করল দেশ। ময়দানের লড়াই ছেড়ে সমাজবাদী পার্টির সদর দফতরে লখনউতে আয়োজিত হলো এক বিশাল ‘বাটি-চোখা’ ফিস্ট। কর্মীদের সঙ্গে একই সারিতে বসে সেই খাবার খেলেন খোদ অখিলেশ যাদব। রাজনৈতিক মহলের মতে, সস্তার এই জনপ্রিয় খাবারটিকেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রধান হাতিয়ার করতে চলেছে সপা।
বিজেপির ব্রাহ্মণ ভোজন বনাম অখিলেশের সম্প্রীতি ভোজ: কয়েকদিন আগেই বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী ব্রাহ্মণ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘বাটি-চোখা’ ভোজের আয়োজন করেছিলেন। যোগী সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ ব্রাহ্মণদের মান ভাঙাতেই ছিল সেই আয়োজন। পাল্টা চালে অখিলেশ যাদব এই খাবারটিকে জাতিগত সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরলেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ধনী-দরিদ্র এবং সব ধর্মের মানুষকে এই ভোজে শামিল করতে হবে।
কেন এই ‘বাটি-চোখা’ নিয়ে কাড়াকাড়ি? বারাণসী, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের অতি জনপ্রিয় এই খাবারটি মূলত সমাজের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রধান আহার। উত্তরপ্রদেশের প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ ভোটারই এই অংশের। তাই সস্তার এই পুষ্টিকর খাবারকে পাতে তুলে নিয়ে ওবিসি ও দলিত ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানার দৌড়ে নেমেছে যুযুধান দুই পক্ষই। লিট্টির সঙ্গে গুলিয়ে ফেললেও, আগুনের আঁচে পোড়ানো আটার বাটি আর আলু-বেগুন-টমেটো সেদ্ধর চোখা এখন লখনউয়ের মসনদ দখলের প্রধান চাবিকাঠি।