২০২৬ সালের শুরুতেই দেশজুড়ে ধূমপায়ী এবং তামাকজাত পণ্য ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিগারেটের ওপর নতুন আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে বাজারের প্রতিটি ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে।
সিগারেটের ওপর শুল্কের নতুন হিসেব: অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিগারেটের দৈর্ঘ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতি হাজার স্টিকে ২,০৫০ টাকা থেকে ৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক দিতে হবে। সবথেকে বড় বিষয় হলো, এই অতিরিক্ত কর বর্তমানে বিদ্যমান ৪০ শতাংশ জিএসটি-র (GST) ওপর চাপানো হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশিকা অনুযায়ী তামাকজাত পণ্যে ৭৫ শতাংশ কর থাকার কথা থাকলেও ভারতে তা ছিল মাত্র ৫৩ শতাংশ। এবার সেই ব্যবধান ঘোচাতেই কড়া পদক্ষেপ নিল সরকার।
পানমশলা ও বিড়িতেও বড় বদল: শুধু সিগারেট নয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে জর্দা, পানমশলা এবং গুটখার দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। সরকার জানিয়েছে, পানমশলার ওপর অতিরিক্ত জিএসটির পাশাপাশি ‘স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সেস’ (Health and National Security Cess) আরোপ করা হবে। তবে বিড়ির ক্ষেত্রে জিএসটি ১৮ শতাংশেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? ১. তামাক সেবন কমানো: উচ্চহারে কর চাপিয়ে সরকার চায় তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার কমিয়ে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে। ২. কর ফাঁকি রোধ: চিবানো তামাক ও জর্দা উৎপাদনকারী যন্ত্রের ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য ‘নতুন নিয়ম, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে যাতে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া বন্ধ হয়। ৩. রাজস্ব বৃদ্ধি: সংশোধিত ‘কেন্দ্রীয় আবগারি সংশোধনী বিল, ২০২৫’ পাসের মাধ্যমে এই স্থায়ী কর ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে, যা সরকারি কোষাগারে বড় অঙ্কের রাজস্ব নিশ্চিত করবে।
বাজারে প্রভাব: সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আইটিসি (ITC) এবং গডফ্রে ফিলিপসের মতো বড় তামাক কোম্পানিগুলোর মুনাফায় টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ধূমপায়ীদের পকেটে যে বড় টান পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই জিএসটি ক্ষতিপূরণ সেস বন্ধ হয়ে নতুন এই শুল্ক কাঠামো চালু হবে।