‘দলে থাকার অধিকার নেই’! ভোটের মুখে ভাঙড়ে নেতাদের কড়া ফতোয়া শওকত মোল্লার

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণভেড়ি কার্যত বেজে গিয়েছে। বছর শেষ হতে আর মাত্র দু’দিন বাকি, আর তার আগেই ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্বের রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে তুললেন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। আগামী ২ জানুয়ারি বারুইপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা সভাকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মীদের ও নেতাদের জন্য ‘কড়া ফতোয়া’ জারি করলেন তিনি। শওকতের সাফ কথা— এই জমায়েতে কোনো খামতি থাকলে সংশ্লিষ্ট নেতাদের দলে থাকার অধিকার নেই।
সদ্যই শওকত মোল্লা ঘোষণা করেছেন যে, আগামী নির্বাচনে ভাঙড় আসনটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দেবেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই ১ জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠা দিবস থেকে কোমর বেঁধে নামছে ঘাসফুল শিবির। শওকতের নির্দেশ, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্বের প্রতিটি বুথে অন্তত ২০০টি করে দলীয় পতাকা লাগাতে হবে। এলাকা যেন পুরোপুরি পতাকায় মুড়ে যায়। ১ জানুয়ারি সকাল সকাল পতাকা উত্তোলন করে কর্মীদের নিয়ে মিষ্টিমুখ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
আসল শক্তি প্রদর্শন হবে ২ জানুয়ারি সাগরের সঙ্ঘ মাঠে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই সভায় ২ লক্ষ মানুষের জমায়েত করতে মরিয়া শওকত। নির্দেশ অনুযায়ী, ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্ব থেকে ৩৫০টি গাড়ি বেলা ১২টার মধ্যে বারুইপুরের দিকে রওনা দেবে। প্রতিটি গাড়িতে নির্দিষ্ট স্টিকার থাকতে হবে। শওকতের কড়া হুঁশিয়ারি, “আমি মনে করি এই জমায়েতের ক্ষেত্রে কোনো নেতা দুর্বলতা দেখালে তাঁদের দলে থাকার অধিকার নেই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাঙড়কে কেন্দ্র করে আইএসএফ-এর দাপট কমাতে এবং সংগঠনের শক্তি যাচাই করতেই এমন ‘মিলিটারি কায়দায়’ প্রস্তুতি নিচ্ছেন শওকত। হাতে সময় নেই, তাই বছর শুরুর প্রথম দিন থেকেই কার্যত ভোটের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য এই কড়া দাওয়াই বিধায়কের।