শত্রুর অস্ত্রেই কি বাজিমাত? ২৬২ কোটির ‘দুর্গাঙ্গন’ দিয়ে বিজেপির হিন্দুত্ব তাসে মমতার বড় চাল

কলকাতার নিউটাউনে আজ এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ২৬১.৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে চলেছে সুবিশাল ‘দুর্গাঙ্গন’। যেখানে বছরভর অধিষ্ঠিত থাকবেন দেবী দুর্গা। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আমেজ এবার আর মাত্র চার দিনের ফ্রেমে বন্দি থাকবে না, বরং তিলোত্তমায় সারা বছর বইবে পুজোর হাওয়া। কিন্তু এই বিশাল প্রকল্পের নেপথ্যে কেবল পর্যটন নয়, বরং ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে এক গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির ‘রাম’ এবং ‘কালী’ তাসের পাল্টা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেছে নিয়েছেন বাঙালির চিরকালীন আবেগ ‘মা দুর্গা’কে। ২০২১-এ ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান বাংলায় খুব একটা প্রভাব ফেলতে না পারায় গেরুয়া শিবির এখন ‘জয় মা কালী’কে হাতিয়ার করছে। ঠিক এই জায়গাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শাক্ত ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি দুর্গাপুজোকে সরকারি সিলমোহরে স্থায়ী রূপ দিচ্ছেন। একদিকে ইউনেস্কো হেরিটেজ তকমা, অন্যদিকে বছরভর দর্শনার্থীদের ভিড়—সব মিলিয়ে বিজেপিকে তাদের নিজস্ব অস্ত্রেই ঘা দিতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।

অন্যদিকে, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের সাফল্য এখন রাজ্য সরকারের আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, উদ্বোধনের মাত্র ১০ মাসেই (২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত) দিঘার জগন্নাথ ধামে পা রেখেছেন ১ কোটিরও বেশি দর্শনার্থী। ওড়িশার জগন্নাথ আবেগকে বাংলার সৈকতে নিয়ে এসে একদিকে যেমন পর্যটনে জোয়ার এসেছে, তেমনি ওড়িয়া ও বাঙালি সংস্কৃতির দীর্ঘকালীন বিরোধকেও উন্নয়নের স্রোতে ভাসিয়ে দিতে চাইছেন মমতা। তবে এই মন্দির ঘিরে বিতর্কও কম নয়। পুরীর মন্দিরে অ-হিন্দুদের প্রবেশাধিকার বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে যে গোঁড়া হিন্দুত্ববাদী বিতর্ক বিজেপি উসকে দিচ্ছে, তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে দিঘার মন্দিরে সর্বধর্মের মানুষের প্রবেশের পথ খোলা রেখেছেন মমতা। ২০১৭ সালে পুরীর মন্দিরে বাধার মুখে পড়া মমতা এবার বাংলাতেই বিকল্প ‘ধাম’ গড়ে তুলে ওড়িশার রাজনৈতিক সমীকরণকেও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। সব মিলিয়ে জগন্নাথ ও দুর্গা—দুই মহাশক্তির শরণে থেকেই কি তবে ২০২৬-এর বৈতরণী পার হতে চাইছে তৃণমূল? সময় এর উত্তর দেবে।