“অমুসলিমদের পুড়িয়ে মারা হচ্ছে!” বড়দিনের বার্তায় ইউনূস সরকারকে বেনজির আক্রমণ শেখ হাসিনার

বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান নির্যাতনের অভিযোগে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদগার করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বড়দিন উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান ‘অবৈধ’ শাসকগোষ্ঠী মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে এবং অমুসলিমদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালাচ্ছে।

৭৮ বছর বয়সী আওয়ামী লীগ নেত্রী গত সপ্তাহে হিন্দু যুবক দীপু দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “বর্তমান শাসকরা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পুড়িয়ে মারার মতো ভয়াবহ নজির স্থাপন করছে। অমুসলিমদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার চালানো হচ্ছে।” তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশের মানুষ এই ‘অন্ধকার সময়’ বেশিদিন চলতে দেবে না। উল্লেখ্য, গত সোমবারই ঢাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন।

গত আগস্ট মাসে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। গত সপ্তাহে ময়মনসিংহ শহরে ২৫ বছর বয়সী এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মারার ১০ দিনের মাথায় ফের একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু শেখ হাসিনা এই সমস্ত আশ্বাসে কর্ণপাত করতে নারাজ। তাঁর মতে, ইউনূস সরকার দেশে মৌলিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ।

ইউনূসকে সরাসরি দায়ী করে হাসিনা বলেন, “এই বিশৃঙ্খলা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ভারত দেখছে কীভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং আমরা যা গড়ে তুলেছিলাম তা ধ্বংস করা হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে না পারলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইউনূসের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না। বড়দিনের উৎসবের মধ্যেই এই রাজনৈতিক তর্জা ওপার বাংলার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।