বাংলাদেশে ‘ইন্ডিয়া বয়কট’ স্লোগান, চট্টগ্রামে দূতাবাসে হামলার চেষ্টা! হাদির মৃত্যুতে অগ্নিগর্ভ ওপার বাংলা

ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ভারত-বিদ্বেষের আগুন এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতভর তাণ্ডবের পর শুক্রবার সকালেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার লক্ষণ নেই। উল্টে ঢাকার শাহবাগ থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী— সর্বত্রই ‘ইন্ডিয়া বয়কট’ এবং কট্টর ভারত-বিরোধী স্লোগানে উত্তাল রাজপথ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের বাইরে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে।

চট্টগ্রামে ভারতীয় দূতাবাসে হামলার চেষ্টা গতকাল গভীর রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনারের বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করে একদল কট্টরপন্থী।

ব্যারিকেড ভাঙচুর: নিরাপত্তারক্ষীদের দেওয়া একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যায়।

পুলিশের ওপর হামলা: সংঘর্ষে অন্তত ৩ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলে— তারা ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে সরাসরি ‘যুদ্ধে’ লিপ্ত।

সেনা মোতায়েন: উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ ভোরেই দূতাবাসের বাইরে সেনা মোতায়েন করা হয়। পুলিশ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে আটক করেছে।

শাহবাগে ‘ইন্ডিয়া বয়কট’ স্লোগান, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক
এনসিপি-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে আজ জুম্মার নামাজের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “শরিফ ওসমান হাদিকে ধারণ করুন এবং বাংলাদেশকে রক্ষা করুন।” আজ সকাল থেকেই ঢাকার শাহবাগে বিশাল জমায়েত হয়েছে। সেখানে শোনা যাচ্ছে— ‘দিল্লি না ঢাকা’, ‘ভারতের আগ্রাসন ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘ইন্ডিয়া বয়কট’-এর মতো কট্টর স্লোগান।

রাজশাহীতে ঘেরাওয়ের ডাক ও সংবাদপত্রে আগুন বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে উত্তরবঙ্গ সীমান্ত সংলগ্ন রাজশাহীতেও। আজ সেখানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন ঘেরাও করার ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা। এমনকি বাংলাদেশের দুই প্রধান সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ডেইলি স্টার’-এর দপ্তরেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

ওসমান হাদির মৃত্যুর পর একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছে যে, হাদিকে গুলি করে মূল অভিযুক্ত ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। এই দাবির ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশে নতুন করে ভারত-বিদ্বেষের বিষ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ ১২ ডিসেম্বর হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই চিকিৎসাধীন অবস্থার মধ্যেও ক্রমাগত ভারত-বিরোধী প্রচার চালিয়ে পরিস্থিতি জটিল করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।