নিঃশ্বাস নেওয়াই দায়! দিল্লিতে এবার ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বাধ্যতামূলক, গাড়ি নিয়ে ঢোকার আগে জানুন নয়া নিয়ম

ধোঁয়াশায় ঢাকা রাজধানী এখন কার্যত গ্যাস চেম্বার! দিল্লির বিষাক্ত বাতাস থেকে মানুষকে বাঁচাতে এবার নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে দিল্লির রাস্তায় বেসরকারি গাড়ি চলাচলের ওপর নেমে এল নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া। দূষণ নিয়ন্ত্রণে জারি হলো ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।
১২ লক্ষ গাড়ি ব্রাত্য: সীমান্তে নিশ্ছিদ্র পাহারা
আজ থেকে দিল্লির ১২৬টি চেক পয়েন্টে কড়া নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ। নয়ডা, গাজিয়াবাদ, গুরুগ্রাম বা ফরিদাবাদ থেকে আসা BS-4 বা তার পুরনো মডেলের কোনো প্রাইভেট গাড়ি দিল্লিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র BS-6 প্রযুক্তির গাড়িই চলাচলের অনুমতি পাবে। প্রশাসনের অনুমান, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিদিন প্রায় ১২ লক্ষ গাড়ি দিল্লির সীমানায় আটকে যাবে।
জ্বালানি মিলবে না পিইউসি ছাড়া
গাড়িচালকদের জন্য আরও বড় দুঃসংবাদ! দিল্লির সমস্ত পেট্রোল পাম্পকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বৈধ PUC (Pollution Under Control) সার্টিফিকেট না থাকলে কোনো গাড়িকে তেল বা গ্যাস দেওয়া হবে না। স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট রেকগনিশন ক্যামেরা এবং ভয়েস অ্যালার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়মভঙ্গকারী গাড়িগুলোকে মুহূর্তের মধ্যে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
অফিসে ৫০% কর্মী, স্কুলে অনলাইন ক্লাস
দূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘গ্রাফ-৪’ (GRAP 4) বিধি কার্যকর হওয়ায় জনজীবনেও বড় বদল এসেছে:
ওয়ার্ক ফ্রম হোম: সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ৫০ শতাংশ কর্মীর জন্য ‘বাড়ি থেকে কাজ’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অনলাইন স্কুল: শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে স্কুলগুলোতে অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইন পঠনপাঠনের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য: দিল্লি সরকারের দাবি, বাতাসের বিষাক্ত PM 2.5 কণার ২৫ শতাংশের বেশি আসে গাড়ির ধোঁয়া থেকে।
দিল্লির এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে আজ লোকসভাতেও উত্তপ্ত আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানীর এই ‘দূষণ যুদ্ধ’ এখন গোটা উত্তর ভারতের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।