মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেন এক নয়, যদিও অনেকেই এই দুটিকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। মাইগ্রেন হলো এক বিশেষ ধরনের তীব্র মাথাব্যথা, যা মাথার যেকোনো এক পাশ থেকে শুরু হয়ে ক্রমশ বাড়তে থাকে। তাই একে ‘আধ-কপালি’ ব্যথাও বলা হয়।
মাইগ্রেনের কারণ ও উপসর্গ:
-
কারণ: এই সমস্যা কখনো বংশগত হয়, আবার কখনো টেনশন, ভয়, বা সাইনাস থেকেও জন্ম নিতে পারে। হরমোনগত বিভেদের কারণে মেয়েদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়। সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে এই রোগের শুরু হয়।
-
উপসর্গ: প্রচণ্ড মাথাব্যথার পাশাপাশি বমি বমি ভাব দেখা দেয়। অনেক সময় ব্যথায় চোখ দিয়ে জল পড়ে। মাইগ্রেনের যন্ত্রণা অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং দীর্ঘস্থায়ী, কারো কারো ক্ষেত্রে একটানা কয়েকদিন পর্যন্ত চলে।
এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে অনেকে ওষুধ খান। তবে সবসময় ওষুধ না খেয়ে বাড়িতে কিছু খাদ্য খাওয়ার মাধ্যমেও উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে।
মাইগ্রেনের ব্যথা কমানোর ৮টি খাদ্য উপাদান
১. চা বা কফি: সাধারণ মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে কফি বা চা পান করা উপকারী। এতে থাকা ক্যাফেইন সাময়িক আরাম দিতে পারে।
২. বাদাম: কাজুবাদাম এবং ওয়ালনাটে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকে। মাইগ্রেনের সমস্যা দূর করতে এই বাদামগুলো খেতে পারেন।
৩. আদা: মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পেতে লেবু ও আদার রস একসঙ্গে বা আদা চা খেতে পারেন। এছাড়া আদা কুচি করে চিবালেও উপকার পাওয়া যায়।
৪. ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার: মাইগ্রেনের ব্যথায় ম্যাগনেসিয়াম খুবই কার্যকর। সবুজ শাকসবজি, শস্য, সামুদ্রিক খাবার এবং গমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এই সব খাবার মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে অত্যন্ত উপকারী।
৫. মাছ: মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন-ই পাওয়া যায়। এই দুটি উপাদানই মাইগ্রেনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাই মাছ খাওয়া এক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী।
৬. ফ্যাট ফ্রি দুধ: মাইগ্রেনের সমস্যায় ফ্যাট ফ্রি দুধ পান করা খুবই উপকারী। দুধে ভিটামিন-বি পাওয়া যায়, যা কোষকে এনার্জি যোগায়। তাই ডায়েটে অবশ্যই দুধ রাখা উচিত।
৭. আঙুর: মাইগ্রেনের যন্ত্রণা দ্রুত কমাতে আঙুর বা আঙুরের রস খেতে পারেন। অল্প জলে আঙুরের রস মিশিয়ে খেতে পারলে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
৮. ব্রকলি: ব্রকলিতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়, যা মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে। আপনার যদি এই সমস্যা থাকে, তবে ব্রকলি খান।