সিম কার্ড ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে ১.১৯ কোটি টাকার জালিয়াতি! ICICI ব্যাঙ্ককে ১০ লক্ষ ও Vodafone-কে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা

সাইবার জালিয়াতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় গাফিলতির কারণে ICICI ব্যাঙ্ক এবং Vodafone Idea Limited-কে জরিমানা করল আদালত। সিম কার্ড ক্লোন করে বেআইনি লেনদেনের মাধ্যমে আমদাবাদের একটি সংস্থার ১.১৯ কোটি টাকা খোয়া গিয়েছিল। এই ঘটনায় ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৪৩ ও ৪৩-এ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল।

জালিয়াতির পদ্ধতি ও ঘটনা:

২০২৩ সালের মার্চ মাসে আমদাবাদের Collective Trade Links PVT. Ltd নামের সংস্থাটি সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়।

SIM Swap: সংস্থার ডিরেক্টর প্রকাশ মেহতা ব্যবসার কাজে ভিয়েতনাম যাচ্ছিলেন। ১১ মার্চ, ২০২৩-এ তাঁর সংস্থার নাম ব্যবহার করে অন্য একটি ই-মেল অ্যাকাউন্ট থেকে Vodafone-কে SIM Swap-এর আবেদন জানানো হয়। অর্থাৎ, OTP ঢোকার জন্য ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি অন্য একটি সিমকার্ডে চালান করতে অনুরোধ করা হয়।

Vodafone-এর গাফিলতি: Vodafone কর্তৃপক্ষ কোনও কিছু যাচাই না করেই বিকেল ৪:৩০-এর মধ্যে নতুন সিম তৈরি করে দেয়। অথচ সেই সময় আসল সিমটি আন্তর্জাতিক রোমিংয়ের আওতায় ছিল।

লেনদেন: এরপর, ছুটির দিন (রবিবার) জালিয়াতরা ডুপ্লিকেট সিমকার্ড ব্যবহার করে OTP হাসিল করে নেয়। মোট ২২ বার RTGS এবং NEFT-এর মাধ্যমে সংস্থার ওভারড্রাফ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

ব্যাঙ্ক এবং সংস্থার যুক্তি:

ICICI ব্যাঙ্কের দাবি: ICICI ব্যাঙ্ক প্রথমে দাবি করে যে, RBI-এর নির্দেশ অনুযায়ী পাসওয়ার্ড, OTP, MPIN-এর মাধ্যমেই লেনদেন হয়েছে। তারা কোনও বিধি লঙ্ঘন করেনি এবং গোটা ঘটনার জন্য সংস্থাকেই দায়ী করে। যদিও পরে তারা বেনিফিশিয়ারি অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে।

Vodafone-এর দাবি: Vodafone জানায়, আগে থেকে নথিভুক্ত থাকা একটি ইমেল আইডি থেকেই সিমকার্ড বদলের অনুরোধ এসেছিল, সেই মতোই কাজ হয়েছিল। তবে তারা আন্তর্জাতিক রোমিংয়ের আওতায় থাকা সিমটি যাচাই করেনি।

সংস্থার প্রশ্ন: সংস্থার পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, Vodafone কেন আন্তর্জাতিক রোমিং যাচাই করেনি এবং ICICI ব্যাঙ্ক কেন ছুটির দিনে বিপুল টাকা লেনদেন হতে দেখেও কোনও খোঁজ নিল না।

রায় এবং জরিমানা:

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এবছর জানুয়ারি পর্যন্ত দফায় দফায় শুনানির পর আদালত এই মামলায় রায় দিয়েছে।

ক্ষতিপূরণের নির্দেশ: ICICI ব্যাঙ্ক ও Vodafone-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সংস্থাকে মূল খোয়া যাওয়া অঙ্কের ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে।

জরিমানা: গাফিলতির জন্য ICICI ব্যাঙ্ককে ১০ লক্ষ টাকা এবং Vodafone-কে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তদন্তে জানা যায়, সিমকার্ড ক্লোন করে জালিয়াতির এই চক্র অনেক দূর ছড়িয়েছে এবং এতে দু’টি ব্যাঙ্কের কিছু কর্মী এবং ১৮ জন সিমকার্ড বিক্রেতার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হয়েছিল।