রান্না করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত হাত পুড়ে যাওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। এমনটা ঘটলে অস্থির না হয়ে দ্রুত চুলা বন্ধ করে দিন। ঘরোয়া উপায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারেন। তবে কিছু প্রচলিত ভুল পদ্ধতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।
🧊 পুড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন? (৬টি ঘরোয়া চিকিৎসা)
১. ঠাণ্ডা জলের প্রয়োগ: দ্রুত ক্ষতস্থানে কমপক্ষে ১৫ মিনিট ধরে ঠাণ্ডা জল ঢালুন। এটি জ্বালা এবং ত্বকের গভীরের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে। ২. ভিনেগার মিশ্রণ: ভিনেগারের সঙ্গে সম পরিমাণে জল মিশিয়ে ক্ষত স্থানটি ধুয়ে নিন। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে এবং সংক্রমণ রোধ করে। ৩. অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরার জেল বের করে পোড়া জায়গায় লাগিয়ে নিন। এতে ত্বকে শীতল অনুভূতি দেবে ও জ্বালাভাব কমে আসবে। ৪. আদা রস: আদা গ্রেট করে রস বের করে পোড়া স্থানে লাগিয়ে দিন, এতে দ্রুত জ্বালা কমবে। ৫. ঠান্ডা টি ব্যাগ: চা পাতায় আছে ট্যানিক অ্যাসিড, যা ত্বককে শীতল করে। পোড়া জায়গায় কয়েকটি ঠাণ্ডা ভেজা টি ব্যাগ ধরে রাখুন। ৬. মধু: ইনফেকশনের ঝুঁকি কমাতে ক্ষতস্থানে মধু ব্যবহার করা যেতে পারে, কারণ মধুর অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ রয়েছে।
❌ যে ৭টি জিনিস ভুলেও ব্যবহার করবেন না! (বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা)
পোড়া জায়গায় কখনওই এই জিনিসগুলো ব্যবহার করবেন না:
-
টুথপেস্ট
-
মাখন
-
তেল
-
ময়দা
-
ডিম
-
বরফ (সরাসরি বরফ লাগালে ত্বকের টিস্যুর ক্ষতি হতে পারে)
এই উপাদানগুলোর কোনোটা কাজে তো লাগেই না, উল্টো মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং তাপ ধরে রেখে ক্ষতের গভীরতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
🔴 কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
মনে রাখবেন, শুধু সামান্য পুড়লে (ফার্স্ট ডিগ্রি বার্ন) এসব ঘরোয়া পদ্ধতি কাজে দেবে। যদি বেশি পুড়ে যায় বা ক্ষত গুরুতর হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, যদি অতিরিক্ত পুড়ে যায়, তখন ব্যথা কম হতে পারে। কারণ ক্ষতের আশেপাশের স্নায়ুও ধ্বংস হয়ে যায়। এই অবস্থাকে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের সাহায্য নিতে হবে।