পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) ঘিরে যখন অভিযোগের ঝড় বইছে, তখনই এক বিস্ফোরক দাবি তুলে ধরলেন বিজেপি নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের ২,২০৮টি বুথে নাকি একজনও মৃত ভোটারের নাম পাওয়া যায়নি! এই আশ্চর্য পরিসংখ্যানের শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা।
‘অমরত্ব লাভ’ নিয়ে ব্যঙ্গ
তরুণজ্যোতির এই এক্স পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে তিনি ব্যঙ্গের সুরে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন:
“২৩ বছরে অমরত্ব লাভে এগিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষ! শেষ SIR হয়েছিল ২০০২ সালে। তাহলে ২০০২ থেকে ২০২৫ ২৩ বছরে একজনও মারা যায়নি? সবাই কি অমর হয়ে গেছে? রাজ্যের ২,২০৮টা বুথে নাকি একজনও মৃত ভোটার নেই! সব ফর্ম ফেরত এল! শীর্ষে দঃ ২৪ পরগনা বাহবা!”
তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, “দঃ ২৪ পরগনায় অমরত্বের ফ্রি কোচিং চলছে?”
BLO-দের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সাধারণত SIR-এর মূল উদ্দেশ্যই হলো মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। কিন্তু একটি বিশাল জনবহুল জেলায় ২৩ বছরে একজনও মৃত ভোটার চিহ্নিত করতে না পারার ঘটনা প্রশাসনিকভাবে কতটা স্বাভাবিক, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তরুণজ্যোতি।
-
ইচ্ছাকৃত তথ্য গোপন: তিনি কার্যত প্রশ্ন তুলেছেন, SIR প্রক্রিয়া পরিচালনায় BLO-দের ভূমিকা কতটা সঠিক ছিল এবং তাঁরা কি ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত ভোটারদের তথ্য ‘অনুপস্থিত’ দেখিয়েছেন?
-
কটাক্ষ: তাঁর তির্যক মন্তব্য, “BLO-রা দয়া করেছে বলে ভোটারেরাও বোধহয় শাকে-ভাতে বেঁচে আছে! কেউ মারা গেলে তো জানাতে হবে, তাই সবাই ‘জীবিত’ থাকার অভিনয় করছে!”
রাজনৈতিক চাপানউতোর
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণজ্যোতির এই মন্তব্য রাজ্যের ভোটার তালিকা পরিচালনায় স্বচ্ছতার অভাবকে সরাসরি লক্ষ্য করে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ—ভোটার তালিকায় মৃত ভোটারের সংখ্যা বেশি এবং BLO-দের উপর চাপ সৃষ্টি করে স্বচ্ছতা বিঘ্নিত করা হচ্ছে। তরুণজ্যোতির পোস্ট সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
যদিও তৃণমূলের দাবি, বিরোধীরা অযথা রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুঁড়ি করছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা একটি বড় জেলা এবং সেখানে SIR প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে বলেই মৃত ভোটার ‘নেই’ এমন রিপোর্ট এসেছে। তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, “বিজেপির কাজ শুধু বিভ্রান্তি ছড়ানো।”
তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই দাবি সত্যি হয় তাহলে তা প্রশাসনিকভাবে অভূতপূর্ব; আর যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে তা নির্বাচন কমিশনের গুরুতর গাফিলতি।