ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি (KIIT)-র হোস্টেল থেকে প্রথম বর্ষের বি.টেক পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। রবিবার হোস্টেলের ঘর থেকে ওই ছাত্রের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ফের একবার প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মৃত ছাত্রের পরিচয় ও তদন্ত
জানা গিয়েছে, মৃত ওই যুবক ছত্তিশগড়ের রায়গড়ের বাসিন্দা এবং তিনি কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
-
দেহ উদ্ধার: সোমবার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসিপি) সোনাল সিং পরমার জানান, “তার দেহ হোস্টেল রুম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।” এএসিপি আরও জানান, ঘটনাটি রবিবার ঘটে এবং ইনফোসিটি থানার কর্মকর্তারা দেহটি উদ্ধার করেন।
-
তদন্তের নির্দেশ: পুলিশ পড়ুয়ার মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে সবদিক থেকে তদন্ত শুরু করেছে। ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি বোঝার জন্য ইনফোসিটি থানার পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে।
-
পরিবার: বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের পরিবার ইতিমধ্যেই ভুবনেশ্বরে পৌঁছে গিয়েছে এবং বর্তমানে পোস্ট-মর্টেম চলছে।
এই বছরে তৃতীয় আত্মহত্যা, UGC-র রিপোর্ট
প্রসঙ্গত, এই বছর KIIT ক্যাম্পাসে এটি তৃতীয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা। এর আগে:
-
১৬ ফেব্রুয়ারি: প্রথম ঘটনা ঘটে, যেখানে এক নেপালি ছাত্রী মারা যান।
-
১ মে: আরও এক নেপালি ছাত্রী আত্মহত্যা করেন।
এই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটি কেআইআইটি বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়ী করে। প্রফেসর নাগেশ্বর রাওয়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি তাদের ২০ মে, ২০২৫-এর প্রতিবেদনে জানায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের “অবৈধ ও বেআইনি কার্যকলাপ” একটি মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল এবং প্রশাসনের কার্যকলাপ “ফৌজদারি দায়বদ্ধতার পর্যায়ে পৌঁছায়।” ইউজিসি কমিটির এমন গুরুতর রিপোর্টের পরেও ফের শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে অভিভাবক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।