রাজ্যের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই হুগলির চাঁপদানি বিধানসভার বৈদ্যবাটি পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১২৫ জন ভোটার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা। ভোটারদের বাড়িতে তিনবার ঘুরেও SIR ফর্ম দিতে না-পেরে শেষে দেওয়ালে নোটিশ টাঙিয়ে দিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বুথ লেভেল অফিসার (BLO)।
বৈদ্যবাটি পুরসভার তিনটি বুথে (১০৯, ১১১ ও ১১২ নম্বর) এই ঘটনা ঘটেছে। ১০৯ নম্বর বুথে ৭০ জন, ১১১ নম্বর বুথে ২৫ জন এবং ১১২ নম্বর বুথে ৩০ জন ভোটারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, আগে এলাকায় দেখা গেলেও SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই এঁরা ‘বেপাত্তা’।
বিজেপির অভিযোগ: ‘ভাড়াটে ও ভুয়ো ভোটার’
নিখোঁজ ভোটারদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিজেপি সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছে। বিজেপির বিএলএ-২ সমীরণ দে বলেন, “আমরা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, অথচ এই সব ভোটারকে চিনিই না। এতদিন ভোট দিয়ে এসেছেন, আর এসআইআর শুরু হতেই বেপাত্তা। এরা ভুয়ো ভোটার কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।”
বিজেপি নেতা হরি মিশ্র আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে দাবি করেন, “এখান থেকে বোঝাই যাচ্ছে, তৃণমূল ভোটে জেতার জন্য বাংলাদেশি রোহিঙ্গাদের দিয়ে ভাড়া করে নিয়ে এসে এতদিন ভোটে জিতে এসেছে। এসআইআর না-হলে বোঝাই যেত না, কত ভুয়ো ভোটার আছে। এরা তৃণমূলের ভাড়াটে ভোটার।”
তৃণমূলের পাল্টা দাবি: ‘কাজের জন্য অন্য জায়গায় চলে গিয়েছেন’
অন্যদিকে, বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন বৈদ্যবাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পিন্টু মাহাত। তিনি বলেন, “যাঁদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁরা অন্য কোথাও চলে গিয়েছেন। কয়েকজনের আবার দুই জায়গায় নাম আছে। আমার ওয়ার্ডের একটি বুথে ১৫৬ জন ভোটারকে ফর্ম দেওয়া যায়নি। সেই বুথে বেশিরভাগ মুটিয়া ভোটার। তাঁরা কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় চলে গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বিহারের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। এটা কোনও ভুয়ো ভোটারের বিষয় নয়।”
প্রশাসন কী বলছে?
শ্রীরামপুর মহকুমা শাসক শম্ভুদীপ সরকার এই প্রসঙ্গে জানান, “বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কমিশনের নিয়মানুযায়ী, ভোটারদের খুঁজে না-পাওয়া গেলে নোটিশ দিতে হবে। বিএলওরা নির্বাচন কমিশনের সেই নির্দেশ মতোই কাজ করছেন। ভোটারদের খুঁজে না-পাওয়া গেলে তালিকায় নাম উঠেবে না। সেক্ষেত্রে আগামী দিনে ফের নতুন করে নাম তুলতে হবে তাঁদের।”