নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে লড়ার জন্য তিনি প্রস্তুত। সোমবার মহেশতলার সেবাশ্রয় ২ ক্যাম্পেন থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় এমনটাই জানিয়ে দিলেন। বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়ার চ্যালেঞ্জ জানানোর পরই এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন তিনি।
সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারীরা তাঁকে কার্যত নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে লড়ার জন্য চ্যালেঞ্জ করছেন, তিনি কি লড়বেন? জবাবে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড কী বললেন?
নন্দীগ্রাম নিয়ে অভিষেকের বড় ইঙ্গিত:
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:
“হয়তো সুকান্ত মজুমদারের এটা গোপন ইচ্ছে, তবে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয় তৃণমূলের উপর ছেড়ে দিন। দল আমাকে যেভাবে কাজে লাগাবে, সেভাবে কাজ করব। দল যদি বলে, নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে, দাঁড়াব। যদি বলে, দার্জিলিংয়ে দাঁড়াতে, তাহলেও সেটাই করব। অন রেকর্ড বলছি।”
এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতা বনাম শুভেন্দুর বদলে অভিষেক বনাম শুভেন্দু লড়াই দেখা যেতে পারে? দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই ইঙ্গিত বহু প্রশ্নের জন্ম দিল।
সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য:
এর আগে বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার নন্দীগ্রামের বিধানসভায় দাঁড়াবেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “আমার কাছে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার নন্দীগ্রামের বিধানসভায় দাঁড়াবে। সেই জন্য নিজের অনুগামী পুলিশ অফিসারদের ওই জেলাতে ট্রান্সফার করা হচ্ছে। ওঁর উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার খুব শখ। সেই উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য উনি নন্দীগ্রামের বিধানসভায় দাঁড়াবেন বলে খবর আছে।” যদিও পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “আমরা এবার ঠিক করেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানেই দাঁড়াবেন, সেই খানেই হারাব।” অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের বর্তমান বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেছেন, এখানে অভিষেক দাঁড়ালেও তাঁকে কেউ ভোট দেবে না।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের আসন বদলে নন্দীগ্রাম থেকে লড়েছিলেন এবং তিনি শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত হন। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, লোডশেডিং করিয়ে ষড়যন্ত্র করে নেত্রীকে হারানো হয়েছে।