প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে সম্পর্ক সবসময় যে মসৃণ হবে এমন নয়। সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় জাপান ও চিনের মধ্যে সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যার মূলে রয়েছে একটি নকল মুদ্রা বা ‘হেল মানি’। জাপানের অন্যতম পবিত্র স্থান সেনসোজি মন্দিরের প্রণামী বাক্সে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা গিয়েছে, চিন থেকে আসা এক পর্যটক মন্দিরের প্রণামী বাক্সে এই নকল নোটটি ফেলেন। জাপানের মানুষ এই কাজটিকে অপমান হিসাবে দেখছেন, যার ফলে বিষয়টি ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
‘হেল মানি’ আসলে কী?
হেল মানি হলো চিনে ব্যবহৃত একধরনের নকল নোট, যা দেখতে আসলের মতোই হলেও তা কোনও আইনি মুদ্রা বা কেনাকাটার জন্য ব্যবহার করা যায় না। এই মুদ্রার ব্যবহার সেখানকার প্রাচীন ঐতিহ্য ও বিশ্বাস দ্বারা চালিত:
-
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রথা: চিনে কারও জীবনাবসান হলে, অনেকসময় তাঁর পরিবার এই হেল মানি পোড়ায়।
-
বিশ্বাস: চিনের মানুষ বিশ্বাস করেন যে হেল মানি পুড়িয়ে দিলে প্রয়াত পরিজনের অন্যলোকে (পরবর্তী জীবন) পৌঁছে কোনও আর্থিক সমস্যা হবে না।
-
ঘুষের ধারণা: অনেকে একে অন্যলোকে আধিকারিকদের দেওয়া একধরনের ঘুষ হিসাবেও মনে করেন, যাতে প্রিয়জনের সেখানে কোনো অসুবিধা না হয়।
মৃত্যুর পর ব্যবহৃত সেই প্রতীকী মুদ্রা এভাবে জাপানের একটি অত্যন্ত পবিত্র মন্দিরের প্রণামী বাক্সে ফেলাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাপানের নাগরিকদের মতে, এই কাজ ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা নষ্ট করেছে।