দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের ১০ দিনের বিচারবিভাগীয় (Judicial) হেফাজতে পাঠাল পাটিয়ালা হাউস কোর্ট। দশ দিনের পুলিশ হেফাজত শেষে শনিবার আদালতে পেশ করা হয়েছিল ডা: মুজাম্মিল শাকিল গনাই, ডা: আদিল আহমেদ রাধার, ডা: শাহিন সইদ ও মুফতো ইরফান আহমদ ওয়াগেকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, চারজনকেই এবার বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হবে।
‘হোয়াইট-কলার’ মডিউলের সঙ্গে যোগ:
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এই বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত একটি নেটওয়ার্ককে ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’ বলে উল্লেখ করেছে, যার সঙ্গে দিল্লির বিস্ফোরণের সরাসরি যোগ রয়েছে। এনআইএ (NIA) জানিয়েছে, আত্মঘাতী হামলার নেপথ্যের এই চক্রটি ভাঙতে বিভিন্ন রাজ্যে লাগাতার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
মুজাম্মিলের আরও দুই গোপন আস্তানা চিহ্নিত:
তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশের হাতে এসেছে আরও বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, মূল অভিযুক্ত ডা: মুজাম্মিল শাকিল গনাই নকল পরিচয় দিয়ে অন্তত দু’টি অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ি নিয়েছিল।
-
নতুন ডেরা ১ (খোরি জামালপুর): ফরিদাবাদের খোরি জামালপুর গ্রামের এক প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান জম্মা খানের বাড়ির উপরের তলায় তিনখানা শোবার ঘর ও ড্রয়িংরুম সমেত একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিল মুজাম্মিল। মালিককে সে জানিয়েছিল, সেখানে সে ফলের ব্যবসা শুরু করবে। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত মাসে ৮ হাজার টাকা ভাড়া দিত সে। বাড়িটির ঠিক নীচেই ছিল প্লাস্টিকের কাঁচামালের একটি কারখানা।
-
নতুন ডেরা ২: একই সঙ্গে একজন কৃষকের জমিতে একটি ছোট ঘরও ভাড়া নিয়েছিল মুজাম্মিল।
আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীনই মুজাম্মিল এই গোপন আস্তানাগুলিতে যাতায়াত করত বলে দাবি পুলিশের। সম্প্রতি এনআইএ দল মুজাম্মিলকে নিয়ে সেই বাড়িতে যায় এবং বাড়ির মালিককে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে।
উল্লেখ্য, ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি হুন্ডাই i20 গাড়িতে বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন।