দেশের অভ্যন্তরে মাওবাদী কার্যকলাপ নির্মূল করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযানের মধ্যে এক বড় সাফল্য পেল মহারাষ্ট্র পুলিশ। নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মাওবাদী)-এর শীর্ষ নেতা বিকাশ নাগপুরে ওরফে অনন্ত তাঁর ১০ জন অনুগামী-সহ মহারাষ্ট্র পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। মাত্র কয়েক দিন আগেই এই নেতা তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে চিঠি লিখে আত্মসমর্পণের জন্য সময় চেয়েছিলেন।
গত শুক্রবার নাগপুর রেঞ্জের ডেপুটি ইনস্পেক্টর অঙ্কিত গোয়েল এবং গণ্ডিয়ার পুলিশ সুপার গোরখ ভামরের কাছে এই ১১ জন মাওবাদী ক্যাডার অস্ত্র সমর্পণ করেন।
₹৮৯ লাখ টাকার পুরস্কার:
মাওবাদী নেতা অনন্ত নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মাওবাদী)-এর মহারাষ্ট্র–মধ্যপ্রদেশ–ছত্তিশগড় (MMC) অঞ্চলের বিশেষ জোনাল কমিটির সদস্য এবং মুখপাত্র ছিলেন।
-
পুরস্কারের পরিমাণ: এই মাওবাদী দলের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র সরকার মোট ₹৮৯ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
-
অনন্তের মাথার দাম: কেবল অনন্তর মাথার দাম ছিল ₹২৫ লাখ।
চিঠি লিখে সময় চেয়েছিলেন অনন্ত:
এই আত্মসমর্পণের কয়েক দিন আগে, ২২ নভেম্বর অনন্ত তিনটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে দুটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি MMC অঞ্চলের অন্যান্য মাওবাদী ক্যাডারদের অস্ত্র সমর্পণের জন্য প্রস্তুত করতে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে, রাজ্য সরকারগুলিকে এই সময়ের মধ্যে অভিযান বন্ধ রাখার অনুরোধও করেছিলেন। তবে ২৭ নভেম্বর তিনি পুনরায় চিঠি লিখে আত্মসমর্পণের সময় কমানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
অনন্তের মাওবাদী যাত্রাপথ:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অনন্তের প্রাথমিক জীবনেই মাওবাদী মতাদর্শের প্রভাব পড়ে। মুম্বাইতে পড়ার সময় তিনি প্রথমবার মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে নাগপুরে ব্যাচেলর অফ এডুকেশন (বি.এড.) করতে গিয়ে তিনি গাডচিরোলিতে আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। প্রায় পাঁচ বছর MMC অঞ্চলে কাজ করার পর তিনি ওই অঞ্চলের মুখপাত্র হন।
মাওবাদী নির্মূলের পথে দেশ:
শীর্ষ মাওবাদী নেতা মাদ্ভী হিডমার সম্প্রতি তেলেঙ্গানায় সংঘর্ষে নিহত হওয়ার ঠিক কয়েকদিন পরেই মাওবাদী নেতৃত্বের এই আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আত্মসমর্পণের ঢল এবং লাগাতার অভিযানের কারণে মাওবাদী সংগঠনের শক্তি কমছে। কেন্দ্র সরকার ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনন্তর এই পদক্ষেপ বাকি ক্যাডারদের সমাজের মূল ধারায় ফিরে আসার পথকে সহজ করবে।