ভূ-স্বর্গে আবারও জঙ্গিদের গতিবিধি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে উধমপুর জেলার প্রত্যন্ত বসন্তগড়ের চিংলা-বালোথা গ্রামে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের একটি চাঞ্চল্যকর আচরণ সামনে এসেছে। তারা বাকেরওয়াল গোষ্ঠীভুক্ত একটি পরিবারের দরজায় কড়া নেড়ে সরাসরি খাবার (Food) দাবি করেছে।
এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় গ্রামবাসীরা এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যে, পরিবারটি তৎক্ষণাৎ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং দ্রুত স্থানীয় পুলিশ চৌকিতে খবর দেয়। খবরটি পৌঁছনো মাত্রই নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে খবর, বসন্তগড়ের উপরের দিকের ওই এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম ও প্রত্যন্ত। গভীর রাতে সেখানে তিন জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাকেরওয়াল পরিবারের দরজায় আঘাত করে এবং খাবারের সন্ধান করে। জঙ্গিদের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রচণ্ড আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে কোনওমতে পালিয়ে যান।
এই অভিযোগ পাওয়ার পরই প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ জওয়ানদের একটি যৌথবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “জঙ্গলে দু-তিন জন সন্দেহভাজন জঙ্গির উপস্থিতির খবর পাওয়া গিয়েছে। ওই দুর্গম অরণ্য এলাকা, যেখানে সন্দেহভাজনদের শেষবার দেখা গিয়েছিল, সেখানে যৌথবাহিনী চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত তাদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।”
🏞️ কেন বসন্তগড় এত স্পর্শকাতর?
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, বসন্তগড় এলাকাটি গত কয়েক মাস ধরে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। পাক জঙ্গিরা এই পথকেই অনুপ্রবেশের নতুন রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অনুপ্রবেশ রুট: মূলত কাঠুয়া সীমান্ত হয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের পর জঙ্গিরা এই বসন্তগড় ও আশেপাশের এলাকা দিয়েই জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকায় ঢোকার চেষ্টা করে।
সামরিক প্রস্তুতি: তাই এই এলাকাগুলি সম্পর্কে সেনা যথেষ্ট সজাগ থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই অঞ্চলে একাধিক এনকাউন্টার এবং বড়সড় তল্লাশি অভিযানের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই তল্লাশি অভিযান রাতের অভিযোগের পর আরও জোরদার করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও এনকাউন্টারের খবর নেই, তবে নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ ‘অ্যালার্ট মোডে’ রয়েছে।