‘গণতন্ত্র বিপন্ন, ধর্মনিরপেক্ষতায় আঘাত!’ সংবিধান দিবসে কেন্দ্র সরকারকে বিঁধে সুর চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সংবিধান দিবসের পুণ্যলগ্নে ‘সংবিধান’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার (আজ, ২৬ নভেম্বর) সংবিধান দিবস পালনের অনুষ্ঠান থেকে তিনি সরাসরি কেন্দ্র সরকারকে নিশানা করে তোপ দাগেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের আমলে দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। গণতন্ত্র ঝুঁকির মুখে। বিপন্ন হচ্ছে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন, “এই মুহূর্তে গণতন্ত্র বিপন্ন। ধর্মনিরপেক্ষতা বিপন্ন। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বুলডোজার চলছে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে দেশের সংবিধানই উপযুক্ত রাস্তা দেখাতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যখন ফেডারেলিজমকে ধ্বংস করা হচ্ছে, এই সংকটময় সময়ে, আমাদের সংবিধান যে মূল্যবান নির্দেশনা প্রদান করে তা রক্ষা করতে হবে।”

ভারতের সংবিধান দিবস এবং এর গুরুত্ব

ভারতের সংবিধান ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গৃহীত হয়েছিল এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে তা দেশজুড়ে কার্যকর হয়। এই দিনটি সংবিধান দিবস বা জাতীয় আইন দিবস হিসেবে পালিত হয়। ভারতের সংবিধান রচনা করেছিলেন ডঃ বিআর আম্বেদকর।

ভারতের সংবিধান বহু ভাষা, জাতি, ধর্মের এই দেশের নাগরিকদের সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করে। এটি ভারতবর্ষকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, সেই কথাও সংবিধানে বলা হয়েছে। সর্বধর্ম সমন্বয়ের ধারণাও ভারতীয় সংবিধানে প্রতিফলিত।

সংবিধান দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

সংবিধান দিবসে কেন্দ্রকে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে একটি বার্তা পোস্ট করেন। এছাড়াও তিনি ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংবিধানিক অধিকারের যোগসূত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারতীয় ঐতিহ্যে জন্ম থেকে জীবনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত মোট ১৬টি সংস্কার মানা হয় এবং আমাদের সংবিধানও ঠিক এই ১৬টি পর্যায়ে প্রাপ্ত অধিকার রক্ষা করে। অর্থাৎ, গর্ভে আসার মুহূর্ত থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, সংবিধান প্রতিটি পদক্ষেপে মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতার যত্ন নেয়।