‘তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল গ্রিক দেবতার মতো!’ ‘গুড্ডি’ ছবিতে কাজ করার সময় সত্যি সত্যিই কি ধরমজির প্রেমে পাগল ছিলেন জয়া?

হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ক্লাসিক সিনেমা ‘গুড্ডি’ (Guddi) (১৯৭১)-তে এক স্কুলছাত্রী পর্দার নায়ক ধর্মেন্দ্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তবে সিনেমার গল্প যা-ই হোক না কেন, বাস্তবেও জয়া বচ্চন (Jaya Bachchan) যে ধর্মেন্দ্রকে (Dharmendra) পছন্দ করতেন, সেই কথা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। জয়া একপ্রকার ‘ধরমজি’-র প্রেমে পাগল ছিলেন—এমন আলোচনা বলিউডে কান পাতলেই শোনা যায়।

২৪ নভেম্বর বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্রকে চিরবিদায় জানানোর পর পরিবার থেকে শুরু করে অনুরাগী মহলে তাঁকে ঘিরে নানা স্মৃতি এবং ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে। অসাধারণ শরীরী গঠন এবং সুন্দর চেহারার জন্য ধর্মেন্দ্রের মহিলা অনুরাগীর সংখ্যা ছিল প্রচুর। সেই তালিকায় স্ত্রী হেমা মালিনী সহ রেখা, মীনা কুমারী এবং আশা পারেখের মতো কিংবদন্তি অভিনেত্রীরাও ছিলেন।

‘বসন্তীর চরিত্র করতে চেয়েছিলাম, কারণ ধর্মেন্দ্র ছিলেন!’

করণ জোহরের জনপ্রিয় টক শোতে একবার জয়া বচ্চন এবং হেমা মালিনী একসঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেই শোতে জয়া বচ্চন প্রকাশ্যে ধর্মেন্দ্রের প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা স্বীকার করেন।

করণের প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, “ধর্মেন্দ্র সবসময়ই আমার প্রিয় ছিলেন। আমি যখন তাঁকে প্রথম দেখি তখন আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল একজন গ্রিক দেবতার মতো।”

এই কথা শুনে হেমা মালিনী এবং করণ জোহর দু’জনই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। মজার বিষয় হলো, এই কথা তিনি হেমার পাশে বসেই বলছিলেন। জয়া আরও জানান, “সেই কারণেই আমি ‘শোলে’তে বসন্তীর চরিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছিলাম। কারণ আমি ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলাম।” উল্লেখ্য, ‘শোলে’ ছবিতে জয়া অভিনয় করেছিলেন রাধা-র চরিত্রে, যা ধর্মেন্দ্রের চরিত্র ‘বীরু’-র জেঠিমার চরিত্র ছিল।

অমিতাভের নিরাপত্তাহীনতা

এক পুরনো সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্রও জয়ার সঙ্গে তাঁর স্পেশাল বন্ধনের কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমার কাছে, জয়া এখনও গুড্ডি, সেই একই মিষ্টি হাসি তাঁর। বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু জয়া বদলায়নি, একটুও না।”

অন্যদিকে, ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’তে আমির খান যখন অমিতাভ বচ্চনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, জয়া তাঁকে কোন অভিনেতাকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা ভোগার কথা বলেছিলেন, তখন বিগ বি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে জয়া তাঁকে জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রিয় অভিনেতা ছিলেন ধর্মেন্দ্র। এর থেকেই বোঝা যায়, তাঁদের বন্ধুত্ব এতটাই সুন্দর ছিল যে কখনও কখনও অমিতাভকেও বেগ পেতে হত।

উল্লেখ্য, ধর্মেন্দ্র ২৪ নভেম্বর ৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত হন। আগামী ৮ ডিসেম্বর তাঁর ৯০তম জন্মদিন ছিল।