‘ভুয়ো আদালত, ভুয়ো রায়’! হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ, বড় ‘আন্দোলনের’ হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) কর্তৃক বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই রায়কে ‘অবৈধ’ দাবি করে আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনে নেমেছে। তাদের মূল লক্ষ্য—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ।

আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা ইউনূসকে সরাসরি ‘খুনি-ফ্যাসিবাদী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সমস্ত জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং প্রতিরোধ মিছিল চলবে।

আওয়ামী লীগের দাবি: ‘ভুয়ো আদালত, ভুয়ো রায়’

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দিন কয়েক আগে শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছিল। এই রায়কে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে আওয়ামী লীগ।

দলটি ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দাবি করে:

“অবৈধ দখলদার, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের পদত্যাগ এবং অবৈধ আইসিটি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যানের দাবি। অবৈধ দখলদার ইউনূস এবং তার দলের তৈরি ভুয়ো আদালত কীভাবে হাসিনার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে, জনগণ এই প্রতারণামূলক সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে।”

আওয়ামী লীগের অভিযোগ, ইউনূস গোষ্ঠী শেখ হাসিনা এবং তাঁর দলকে আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র’ চালাচ্ছে।

তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: ‘ধাপ্পাবাজি সরকার’ মানব না

 

রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে আওয়ামী লীগ দেশ রক্ষার জন্য তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার:

“স্বাধীনতাপন্থী শক্তি, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত নির্বাচন ছাড়া বাংলাদেশে কোনও ‘ধাপ্পাবাজি সরকার’ হতে দেওয়া হবে না। যেকোনও মূল্যে এটি প্রতিরোধ করা হবে।”

<h3>কূটনৈতিক চাল: হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতকে চিঠি ইউনূসের</h3>

এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। আইসিটির সিদ্ধান্তের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবিতে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি সরকারি চিঠি পাঠিয়েছেন। এর ফলে পুরো বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্তরে পৌঁছে গেল, যা শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।