‘মেলোডি টিম’-এর হ্যালো, মোদীর ৭৫তম জন্মদিনে আবেগঘন বার্তা দেওয়া মেলোনির সঙ্গে একান্ত আলাপ, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব কি কূটনীতির মোড় ঘোরাচ্ছে?

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আবারও আলোচনায় এলেন দুই আন্তর্জাতিক নেতা—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। শুক্রবার সম্মেলনস্থলে দুই রাষ্ট্রনেতাকে হাসিমুখে অভিবাদন জানাতে ও অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ কথোপকথনে ব্যস্ত দেখা যায়। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তাঁদের এই উষ্ণ সম্পর্ক আগেই নজর কেড়েছিল, কিন্তু জোহানেসবার্গে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত সাক্ষাৎ আরও একবার সেই বন্ধুত্বকে নতুন আলোয় তুলে ধরল।

উল্লেখ্য, এর আগে গত জুন মাসে কানাডার কানানাস্কিসে জি-৭ বৈঠকের সময় শেষবার মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই নেতা।

‘হ্যালো ফ্রম দ্য মেলোডি টিম’: সেলফি থেকে বন্ধুত্ব
মোদির সঙ্গে মেলোনির ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ তাঁদের একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ‘সেলফি মোমেন্ট’। ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে তোলা তাঁদের সেলফিগুলি #Melodi হ্যাশট্যাগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়, যা রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই ট্রেন্ড নজর এড়ায়নি দুই রাষ্ট্রনেতারও। একবার প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সেলফি তুলে মেলোনি হাসতে হাসতে নিজেই লিখেছিলেন—”হ্যালো ফ্রম দ্য মেলোডি টিম।”

ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব, কৌশলগত সহযোগিতা
এই সম্পর্ক কেবল সৌজন্য বিনিময়ে সীমাবদ্ধ নয়, রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও মোদি-মেলোনির সমীকরণ যথেষ্ট দৃঢ়। ইতালির প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিকথার ভারতীয় সংস্করণের ভূমিকা লিখেছেন নরেন্দ্র মোদি নিজেই। সেই ভূমিকায় তিনি মেলোনির প্রতি তাঁর ‘শ্রদ্ধা, প্রশংসা এবং বন্ধুত্ব’ তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি, মেলোনিকে তিনি একজন “দেশপ্রেমিক এবং সমসাময়িক অসাধারণ নেতা” বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদির ৭৫তম জন্মদিনে আবেগঘন শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন জর্জিয়া মেলোনি। তিনি লিখেছিলেন, মোদীর শক্তি, সংকল্প এবং কোটি কোটি মানুষকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের অনুপ্রেরণা জোগায়। এই ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

জি-২০ মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি আফ্রিকায় বিনিয়োগ, সহযোগিতা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ভারতের ধারাবাহিক সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকাকে কেন্দ্র করে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা এবং ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা—দু’দিকেই ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ইঙ্গিত বহন করছে মোদি-মেলোনি দ্বিপাক্ষিক সৌহার্দ্যের এই মুহূর্ত।