চাকরি দুর্নীতির বিধায়ক জেলে, বড়ঞার সভা থেকে তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর, ডাকলেন ‘০’ আসনে নামানোর

চাকরি নিয়োগ দুর্নীতির দায়ে বড়ঞার বিধায়ক জীবন কৃষ্ণ সাহা ইতিমধ্যেই জেল হেফাজতে রয়েছেন। এই আবহে শনিবার বড়ঞার ডাকবাংলা পশুহাটে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’-র সভা করে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনটি বিজেপিকে তুলে দেওয়ার ডাক দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সভা মঞ্চ থেকে তিনি শাসক দলকে কড়া সুরে আক্রমণ শানালেন।

তৃণমূল ব্লক সভাপতিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ

শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় মহাজন। সভায় সম্প্রতি তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সংখ্যালঘু নেতা জালাল উদ্দিন আফাজ নাম না করেই স্থানীয় তৃণমূল ব্লক সভাপতি মাহে আলমকে তীব্র আক্রমণ করেন।

আফাজ বলেন, “এলাকায় এক উকিল আছে, যার এক কলম লিখতে কলম ভেঙে যায়। ডাকবাংলার গরুর হাটে গোবর কুড়িয়ে কিভাবে বিএসএসি কিভাবে পাশ করল? সাটিতারা হাইস্কুলে সাইকেল চুরি ও পরে বাইক চুরি। আগে বাইক চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় এজেন্সি সঙ্গে দেখা করা হবে। ব্যাঙ্ক প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত আছেন।”

‘মুর্শিদাবাদে ২২ থেকে ০ হবে’

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুর্শিদাবাদ জেলাতে তৃণমূলকে মানুষ গ্রহণ করেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু এই জেলায় তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। মুর্শিদাবাদ জেলাতে তৃণমূল কংগ্রেস সাম্প্রদায়িক বীজ বপন করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “মুর্শিদাবাদ জেলাতে সব থেকে বেশি বেকার ও পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। এখানে বালি লুঠ করছে। একদিকে পরিযায়ী শ্রমিক থেকে বালি চুরি, এবছর ধান চুরি করা হচ্ছে। টোটোর লোকদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে।”

শুভেন্দু হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “মুর্শিদাবাদ জেলাতে ২২টি আসনে তৃণমূলকে এনেছিলাম, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ০ করব। কংগ্রেস লড়াই করতে জানে না, লড়াই করতে জানে বিজেপি।”

পুলিশ ও বিধায়ককে কটাক্ষ

শুভেন্দু অধিকারী কান্দির আইসি মৃনালকে (ডাকাত বলে উল্লেখ করে) সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগ আনেন। সদ্য জেলবন্দি বিধায়ক জীবন কৃষ্ণ সাহাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বড়ঞার বিধায়ক পাঁচিলে ঝুলছে, জল ছেঁচে মোবাইল উদ্ধার। এখন জেলের ভেতরে বসে বসে সাড়ে পনেরো দিয়ে যাও।”

তিনি দাবি করেন, “বিহার হয়ে গেছে বিজেপির, এবার পালা বাংলার। SIR পরে আর কোনো ডিফারেন্স থাকবে না। যতই চেষ্টা করা হোক মৃত নাম থাকবে।” তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে হারিয়েছি। আগামীদিনে ভবানীপুরেও হারাবো।”