নারীদের জন্য নাইট শিফট, গিগ কর্মীদের পিএফ, ২৯টি আইন বাতিল করে ভারতে কার্যকর ৪টি নতুন শ্রম বিধি

ভারত সরকার ২১ নভেম্বর থেকে চারটি নতুন শ্রমবিধি কার্যকর করেছে, যা ১৯৩০-৫০ দশকের ২৯টি পুরনো আইনকে প্রতিস্থাপন করে একটি আধুনিক ও সংহত শ্রম কাঠামো তৈরি করেছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই সংস্কার “প্রত্যেক শ্রমিকের মর্যাদা” নিশ্চিত করবে এবং বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষা ও সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।
শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য এটিকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কর্মজগতের জন্য একটি “রূপান্তরমূলক পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছেন, যা আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যের দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
কার্যকর হওয়া চারটি নতুন বিধি:
১. কোড অন ওয়েজেস (২০১৯) ২. ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড (২০২০) ৩. কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি (২০২০) ৪. অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস কোড (২০২০)
এই বিধিগুলি মজুরি, নিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নিয়মগুলির বড় পরিবর্তন এনেছে।
নারী শ্রমিকদের জন্য নতুন সুযোগ ও সুরক্ষা
নতুন বিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল— সব ক্ষেত্রে নারীদের নাইট শিফটে (রাতভর) কাজ করার অনুমতি। এর আগে ভারী যন্ত্রপাতি বা ভূগর্ভস্থ খনির মতো ক্ষেত্রে নারীদের রাতে কাজ করার নিষেধাজ্ঞা ছিল। এখন সেই সীমাবদ্ধতা উঠে যাচ্ছে। তবে এই সুযোগের জন্য কিছু শর্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:
নারীর লিখিত সম্মতি
নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও নিরাপদ যাতায়াত
সিসিটিভি নজরদারি ও নিরাপত্তাকর্মী
রপ্তানি–ভিত্তিক শিল্পে রাতের শিফটে কাজের সুযোগ নারীদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সমান মজুরি ও বৈষম্যবিরোধী নিয়ম
সমান কাজে সমান মজুরি এখন আইনি বাধ্যবাধকতা। কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো নারীদের কম মজুরি দিতে পারবে না।
আইনে নিয়োগ, মজুরি, কাজের দায়িত্ব বণ্টন ও পদোন্নতিতে স্পষ্টভাবে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কর্মস্থলের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে নারীদের মতামত নিশ্চিত করতে গ্রিভিয়েন্স রেড্রেসাল কমিটিতে নারীদের বাধ্যতামূলক সদস্যপদ নির্ধারিত হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষায় বড় পরিবর্তন
সামাজিক সুরক্ষা বিধিতে “পরিবার”–এর আওতায় শ্বশুর–শাশুড়িকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নারীদের পরিচর্যার দায়িত্বকে স্বীকৃতি দেয়।
গিগ কর্মী (Gig Workers), প্ল্যাটফর্ম কর্মী ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের প্রায় ৪০ কোটি শ্রমিক সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এসেছেন। এই শ্রেণিগুলিতে নারীদের অনুপাত বেশি হওয়ায় তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে।
প্রত্যেক কর্মীকে নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক, যা চাকরির শর্ত পরিষ্কার করবে এবং চাকরির প্রমাণ হিসেবে সুরক্ষা দেবে।
স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে এক বছরের পর থেকেই গ্র্যাচুইটির সুযোগ থাকছে।
কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা
ওএসএইচডব্লিউসি কোডে কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
৪০ বছরের ওপর কর্মীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যপরীক্ষা
নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি
বেতন–সহ ছুটি
৫০০–র বেশি কর্মী থাকলে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা কমিটি
এই নতুন সংহত কাঠামোটি শ্রমিকদের সুরক্ষা বাড়ানো, সামাজিক সুরক্ষায় সহজ প্রবেশ এবং কর্মসংস্থানকে বেশি সংগঠিত ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে।