শিক্ষিকা, বডিবিল্ডার থেকে পর্বতজয়ী! ১৯০২৪ ফুট উঁচু ‘উমলিং লা’ জয় করে রেকর্ড বুকে নাম তুললেন বাঁকুড়ার মুন্না পাল

একই অঙ্গে তিনটি ভিন্ন রূপ! তিনি সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা, তিনি একজন বডিবিল্ডার, আর এখন তিনি বাইক নিয়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ‘Motorable Pass’-এর রেকর্ডজয়ী। বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাই স্কুলের ফিজিক্যাল এডুকেশনের শিক্ষিকা মুন্না পাল বাসুলি সম্প্রতি স্কুটি নিয়ে ১৯,০২৪ ফুট উঁচু ‘উমলিং লা’-য় সফলভাবে পৌঁছে গিয়ে সর্বভারতীয় একটি রেকর্ড বুকে নিজের নাম তুলেছেন। তাঁর এই অদম্য স্পৃহা তাঁকে জেলার ‘আইকন’-এ পরিণত করেছে।
রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি মহৎ বার্তা
মুন্না পাল বাসুলি একা নন, বাঁকুড়া এক্সপ্লোরেশন নেচার একাডেমি বা ‘বেনা’র চারজনের একটি দলের সঙ্গে তিনি এই বিপজ্জনক অভিযানে বের হয়েছিলেন গত ৩ অক্টোবর। হিমশীতল পর্বতপথে মোটরসাইকেল চালানোর এই অভিযানে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৭ থেকে মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। এই চরম প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাইক চালানো অত্যন্ত কঠিন কাজ হলেও, দলের অদম্য চেষ্টা তাঁদের সফলতার শিখরে পৌঁছে দেয়।
উমলিং লা জয় করে বাঁকুড়ায় ফিরে মুন্না পাল শুধু রেকর্ডই গড়েননি, তিনি সমাজকে একটি মহৎ বার্তাও দিয়েছেন: বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা জরুরি এবং থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে চলা
একসময় বডিবিল্ডিং নিয়ে কিছু করার স্বপ্ন দেখলেও শিক্ষকতা ও সংসারের দায়িত্বে সেই স্বপ্ন কিছুটা চাপা পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। বিগত তিন থেকে চার বছর ধরে নিয়মিত শরীরচর্চা করে বডিবিল্ডার হিসেবেও তিনি নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন। এই অদম্য কর্মক্ষমতা ও একাধিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মুন্না পাল বাসুলি বর্তমানে বাঁকুড়ার অনুপ্রেরণার প্রতীক।