BLO অ্যাপ থেকে ২ দিনেই উধাও ‘এডিট অপশন’! রাজনৈতিক চাপে ভুল তথ্য দেওয়ার ঝুঁকি, চরম বিভ্রান্তিতে ভোটকর্মীরা

ভোটকর্মীদের (BLO) বিভ্রান্তি যেন আর কাটছে না। কিছুদিন আগেই, তথ্য আপলোডের সময় ভুলভ্রান্তি হলে তা শুধরে নেওয়ার জন্য বিএলও অ্যাপে একটি ‘এডিট অপশন’ চালু করা হয়েছিল। ১৯ নভেম্বর এই সুবিধা শুরু হওয়ার দু’দিনের মধ্যেই সেই গুরুত্বপূর্ণ অপশনটি আবার তুলে নেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের বিএলও-দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

রাজ্যের একাধিক স্থান থেকে বিএলও-দের অভিযোগ ছিল, শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের চাপে পড়ে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভুল বা পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য আপলোড করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এই বিষয়টি প্রধান নির্বাচন আধিকারিক (CEO)-এর নজরে আনেন বিএলও-রা। তাঁদের দাবি ছিল, এই চাপ ও অনিচ্ছাকৃত ভুল শুধরে নিতেই কমিশন এডিট অপশন চালু করেছিল। ভোটকর্মী ঐক্যমঞ্চের স্বপন মণ্ডল বলেন, “কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো অনিচ্ছাকৃত ভুলও হয়ে যায়। সবাই অনলাইনে সড়গড় নন। এডিট অপশন আসায় আমরা স্বস্তি পেয়েছিলাম।”

কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলো না। অপশনটি তুলে নেওয়ায় বিএলও-রা আবারও পুরোনো সমস্যায় জর্জরিত।

সময়সীমা নিয়ে কড়া কমিশন:

এদিকে, এডিট অপশন তুলে নেওয়ার দিনেও কর্মীদের উপর কাজের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২৫ নভেম্বর, অর্থাৎ আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ ভারতী।

শুক্রবার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে CEC স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ৪ ডিসেম্বরের বদলে ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে, সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব নয়। বিএলও-দের তরফে কাজের বাড়তি চাপ ও স্বল্প সময়ের কথা উল্লেখ করে সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানানো হলেও CEC সেই দাবি খারিজ করে দেন। তাঁর বক্তব্য, এই কাজ আগে শেষ না হলে ডিজিটাইজেশনের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করতে সমস্যা হবে। এডিট অপশন উধাও এবং সময়সীমা না বাড়ায় রাজ্যের বিএলও-দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।