‘বাইরের লোক সহজেই ভোটার হয়ে যাবে’! অসমের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নষ্টের আশঙ্কায় রফিকুল ইসলাম, কী বলছে নির্বাচন কমিশন?

অসমে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। AIUDF-এর বিধায়ক রফিকুল ইসলাম এই নির্দেশকে “বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র” বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, SR চালুর এই সিদ্ধান্ত অসমের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নষ্ট করার সুপরিকল্পিত অংশ।

রফিকুল ইসলামের মূল অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল যে অসমে যেহেতু NRC (National Register of Citizens) করা হয়েছে, তাই এখানে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (যা SR নামেও পরিচিত) চালু হবে না। কিন্তু হঠাৎ ২২ নভেম্বর থেকে SR চালুর ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “দেশে ১২টি রাজ্যে এই প্রক্রিয়া চালু হলেও অসমকে আগে ছাড় দেওয়া হয়েছিল NRC-এর পরিপ্রেক্ষিতে। কিন্তু হঠাৎ করে SR চালু হওয়া স্বচ্ছ ভোট প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।”

আরও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে রফিকুল ইসলাম রাজ্যের প্রধান নির্বাচন আধিকারিকের (CEO) একটি ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর কথায়, “মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক বলেছেন, ভোটার তালিকা প্রকাশের দু’দিন আগেও কেউ যদি ভোটার ও অসমের বাসিন্দা হওয়ার দাবি জানায়, তাকে গ্রহণ করা হবে।”

এ বক্তব্যের পরই AIUDF-এর বিধায়ক তীব্র সুরে অভিযোগ করেন, এতে বাইরের লোক রাজ্যে ঢুকে সহজেই ভোটার হয়ে যেতে পারবে। তাঁর দাবি, “এটা এক ভয়ানক ষড়যন্ত্র। RSS ও BJP-এর ক্যাডাররা ঢল নামাবে অসমে, তারপর ভোটার হয়ে যাবে। এটা হতে দেওয়া যাবে না।”

বিরোধী দলগুলোর বড় অংশ AIUDF-এর বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছে যে, একদিকে NRC তালিকা, অন্যদিকে নতুন ভোটার যোগ—এই দুটি ভিন্ন নাগরিক যাচাই নীতি একসঙ্গে চললে এনআরসি-পরবর্তী নাগরিক যাচাই প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্ব এই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করেছে। তাঁদের দাবি, SR পুরোপুরি নিয়মমাফিক এবং নির্বাচনী বিশুদ্ধতা রক্ষার উদ্দেশ্যেই শুরু হয়েছে। বিজেপি-র যুক্তি: প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে, এবং যারা আইনগতভাবে ভোটার হওয়ার যোগ্য, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতেই এই প্রক্রিয়া। তাই এটিকে ষড়যন্ত্র বলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছাড়া কিছু নয়।

নির্বাচন কমিশন অবশ্য স্পষ্ট করেছে, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ডিজিটাল যাচাই, ডকুমেন্ট যাচাই এবং বাড়ি-ভিত্তিক শারীরিক ভেরিফিকেশন সবই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, কোনও গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রশ্নই নেই।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার সংবেদনশীলতা আরও বাড়বে। রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তাঁরা আদালতেও যাবেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের পরিচয়, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার প্রশ্নে কোনওভাবেই আপস করা যাবে না।