কৃষিতে প্রযুক্তি বিপ্লব: চাষকে লাভজনক করতে বাংলায় আসছে ‘উবের মডেল’-এর অ্যাপ-নির্ভর হারভেস্টার পরিষেবা

গ্রামাঞ্চলে কৃষিজমি থাকলেও নতুন প্রজন্মের মধ্যে চাষের আগ্রহ ক্রমশ কমছে। শহরমুখী জীবন, পেশাগত বদল এবং কৃষিকাজের শ্রমসাধ্য বাস্তবতার কারণে কৃষকের অভাব প্রকট হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এবার আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভরতার পথে হাঁটতে চাইছে রাজ্য সরকার। চাষকে সহজ, দ্রুত এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করতে ‘উবের মডেল’-এর মতো অ্যাপ-ভিত্তিক হারভেস্টার পরিষেবা চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবনা শুরু করেছে সরকার।

রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার নজরুল মঞ্চে এক সরকারি অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের প্রসারই কৃষির ভবিষ্যৎ।

“জমি থাকবে কৃষকের, কিন্তু চাষে ব্যবহৃত যন্ত্র—বিশেষ করে হারভেস্টার—চালাবে দক্ষ লোকজন। কৃষক ফোনে বা অ্যাপে জানালে নিকটতম হারভেস্টার তাঁর জমিতে পৌঁছে গিয়ে কাজ করবে। ঠিক উবের বা ওলার মতোই ব্যবস্থা হবে।”

হারভেস্টার অ্যাপ কীভাবে কাজ করবে?
প্রদীপ মজুমদার জানান, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৪,৫০০-এর বেশি হারভেস্টার চলছে। যান্ত্রিকীকরণের এই অগ্রগতিকে আরও কার্যকর করতে অ্যাপ-নির্ভর পরিষেবা চালু করা হচ্ছে।

নতুন অ্যাপ মডেলে কৃষক তাঁর মৌজা, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ জানালে সিস্টেম নিকটবর্তী হারভেস্টারের অবস্থান দেখিয়ে দেবে। যন্ত্রচালকও অ্যাপের মাধ্যমে কাজের নোটিফিকেশন পাবেন। এতে অকারণে দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেওয়া, জ্বালানির অপচয় এবং অফ-টাইম—সবই কমে আসবে বলে সরকার আশাবাদী।

কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন:
এই উদ্যোগের আরেকটি লক্ষ্য হলো গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা। গ্রামীণ যুবদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই হারভেস্টার পরিষেবা পরিচালনায় যুক্ত করা হবে।

মন্ত্রীর কথায়, “সময়ের সঙ্গে কৃষিকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সরকার চায় প্রতিটি দফতর একে অপরকে সহায়তা করুক—কনভার্জেন্সের মাধ্যমেই আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।” পোল্ট্রি ও ভুট্টা উৎপাদনের সাফল্য এবং যান্ত্রিকীকরণের বিস্তার—এইসব উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তি-সম্পৃক্ততার ফলে রাজ্যে ইতিমধ্যেই উন্নয়ন দৃশ্যমান। হারভেস্টার অ্যাপ চালু হলে সেই উন্নয়ন আরও গতি পাবে বলে মনে করছেন কৃষি কর্তারা।