কুর্সি দখলের লড়াই! ডিকে শিবকুমারকে CM করতে হাইকমান্ডের দ্বারস্থ অনুগামীরা

কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেসের ঘরোয়া বিবাদ এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দিল্লির দরবারে। উপমুখ্যমন্ত্রী তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী পদে চেয়ে তাঁর অনুগামীরা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব— মল্লিকার্জুন খাড়গে ও সনিয়া গান্ধীর দ্বারস্থ হয়েছেন।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতেই শিবকুমারের ঘনিষ্ঠ ১০ জন অনুগামী দিল্লি পৌঁছেছেন। শুক্রবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সম্ভবত সনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে।

সিদ্দারামাইয়া VS শিবকুমার: আড়াই বছরের চুক্তির জল কতদূর?

২০২৩ সালের মে মাসে কর্নাটকে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে সিদ্দারামাইয়া বনাম শিবকুমারের লড়াই শুরু হয়। সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করার পর থেকেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল যে, হাইকমান্ড দুই নেতার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রিত্বের পাঁচ বছরের মেয়াদ ‘সমান ভাগে ভাগ’ করে দিয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম আড়াই বছর সিদ্দারামাইয়া এবং পরের আড়াই বছর শিবকুমার এই পদে বসবেন।

যদিও দলীয় নেতৃত্ব প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কখনও মুখ খোলেনি, তবে শিবকুমারের দাবি, দলের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে আড়াই বছর পর সিদ্দারামাইয়া তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি এগিয়ে দেবেন। অনুগামীদের অভিযোগ, সিদ্দারামাইয়া সেই ‘কথা রাখেননি’।

‘নভেম্বর বিপ্লব’ না ‘ভুয়ো সংবাদ’?

দিল্লিগামী শিবকুমারের অনুগামীদের দাবি, কর্নাটকে ‘নভেম্বর বিপ্লব’ শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, “শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে না দেখা পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয় মিলবে না।”

অন্যদিকে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এই ‘বিপ্লব’-কে সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন। এক ওজনদার নেতা হিসাবে তিনি এই বিদ্রোহকে ‘ভুয়ো সংবাদ’ আখ্যা দিয়ে তাঁর অনুগামীদের পাল্টা আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি পুরো পাঁচ বছরের জন্যই মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন। তাঁর কথায়, “বিক্ষুব্ধদের যত বিপ্লব মিডিয়ায়।” রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার খালি নেই বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

শিবকুমারের সমর্থনে প্রভাবশালী ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন বিধায়ক রয়েছেন। কর্নাটকের রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এই সম্প্রদায়ের প্রভাব সুদূরপ্রসারী, যা অতীতে অনেক সরকারের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে, দিল্লিতে সিদ্দারামাইয়াকে দিল্লির কথায় না চলার মানুষ বলে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে, শিবকুমারকে কংগ্রেসের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যিনি অতীতে একাধিক রাজ্যে দলের অভ্যন্তরীণ সঙ্কটমোচন করেছেন।

এবার নিজের রাজ্যে সৃষ্ট এই সঙ্কট কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কীভাবে সামলান, এবং হাইকমান্ড এই বিদ্রোহের মুখে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেশের রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।