পণ্যবাহী গাড়ি থেকে জোর জুলুম করে তোলাবাজি! হাতেনাতে ধরে সার্জেন্ট ও কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করল লালবাজার

পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে নিয়মিত টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘটকপুকুর চৌমাথা এলাকায় লরি ও অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়ি থেকে জোর করে তোলাবাজি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের সত্যতা পেতেই লালবাজারের নির্দেশে এক সার্জেন্ট, এক কনস্টেবল এবং এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ঘটকপুকুর চৌমাথা এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী লরি ও মালবাহী গাড়িগুলো থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ জমা পড়ে। বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসে ভাঙড় ট্রাফিক পুলিশ গার্ড। শুরু হয় গোপন তদন্ত। তদন্তে নেমে ওই এলাকায় ডিউটিতে থাকা পুলিশকর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়। আর তাতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তদন্তে জানা যায়, এই তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট নুরুল ইসলাম মোল্লা, কনস্টেবল শিবানন্দ ঠাকুর এবং সিভিক ভলান্টিয়ার আলি হাসান মোল্লা। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলতেই লালবাজারের তরফে কড়া পদক্ষেপ করা হয়। সার্জেন্ট নুরুল ইসলাম মোল্লা এবং কনস্টেবল শিবানন্দ ঠাকুরকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার আলি হাসান মোল্লাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অর্থাৎ ডিমোবিলাইজ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধেই শুরু হয়েছে সুনির্দিষ্ট বিভাগীয় তদন্ত। ঠিক কত দিন ধরে এই চক্র চলছে এবং এর নেপথ্যে অন্য কেউ মদত দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ব্যস্ততম রুটে মালবাহী গাড়ি থামিয়ে এই ধরণের বেআইনি অর্থ আদায়ের ঘটনায় পুলিশি ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবহণ কর্মী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে লালবাজার। বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।