ভরা দুপুরে শহরে রুদ্ধশ্বাস ‘লুট’! এটিএম ভ্যানে ₹৭ কোটির ডাকাতি, অস্ত্রধারী গার্ডরা কেন কিছুই করল না? বড় প্রশ্নের মুখে পুলিশ

বেঙ্গালুরু। কর্মব্যস্ত বেঙ্গালুরুর বুকে ভরদুপুরে এক দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সরকারি আধিকারিকের বেশ ধরে একদল দুষ্কৃতী সিনেমার কায়দায় সিএমএস ইনফো সিস্টেমসের একটি এটিএম ক্যাশ ভ্যান থেকে প্রায় ₹৭ কোটি ১১ লক্ষ টাকা লুট করে উধাও হয়েছে। ঘটনাস্থলে দুই সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও কোনও প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।

কীভাবে ঘটল এই ডাকাতি?

বুধবার দুপুর ১২:৩০টা থেকে ১টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের জেপি নগর শাখা থেকে তিনটি বাক্সে নগদভর্তি ভ্যানটি রওনা দিয়েছিল এইচবিআর লেআউটের দিকে। ভ্যানে চালক বিনোদ কুমার, ক্যাশ কাস্টডিয়ান আফতাব ও রাজন্নাসহ দুই বন্দুকধারী নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন।

‘আরবিআই অফিসার’ পরিচয়:

জয়নগর দ্বিতীয় ব্লকের কাছে আচমকাই একটি মারুতি জেন ভ্যান এসে ক্যাশ ভ্যানের সামনে ব্রেক কষে দাঁড়ায়। সেই গাড়ি থেকে তিনজন নেমে এসে নিজেদের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) আধিকারিক বলে পরিচয় দেন। তাঁরা দাবি করেন, “আপনাদের বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।” এর পরপরই সেখানে এসে দাঁড়ায় একটি ইনোভা এবং একটি বড় এমইউভি (MUV)।

ক্যাশ ভ্যানের কর্মীরা পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই ‘তদন্তের’ নামে তাঁদের নিরস্ত্র করে ওই বড় গাড়িটিতে উঠতে বলা হয়— কর্মীরা কার্যত বিনা বাধায় উঠে পড়েন। এরপর চালককে ডেয়ারি সার্কল ফ্লাইওভারে অপেক্ষা করতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বাকিদের বলা হয়— পুলিশ স্টেশনে বয়ান দিতে হবে, আর নগদ ‘আরবিআইয়ে পাঠানো’ হবে। নিমহান্স জাংশনে থামতেই স্টাফদের নামিয়ে দিয়ে বলা হয়, তাঁরা যেন সিদ্দাপুরা থানার দিকে হেঁটে রওনা দেন।

অস্ত্র দেখিয়ে নগদ লুট:

এদিকে, ডেয়ারি সার্কল ফ্লাইওভারে একা অপেক্ষারত চালকের কাছে পৌঁছয় দুষ্কৃতীরা। অস্ত্র দেখিয়ে চালককে কাবু করে নগদভর্তি বাক্সগুলি জেন গাড়িতে লোড করা হয়। নিমেষে দলটি উধাও হয়ে যায়। পথের ধারে পড়ে থাকে এমইউভি এবং খালি ক্যাশ ভ্যানটি।

পুলিশের সন্দেহ ‘ইনসাইড হেল্প’-এর দিকে:

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছলেও ততক্ষণে দুষ্কৃতীরা বহু দূরে। বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার সীমন্ত কুমার সিং জানিয়েছেন, কর্মীরা খবর দিতে দেরি করেছেন। এমনকি চালকও বারবার তাঁর বয়ান বদলাচ্ছিলেন। বর্তমানে দুই ডেপুটি কমিশনার এবং এক জয়েন্ট কমিশনারের নেতৃত্বে আটটি বিশেষ দল তদন্তে নেমেছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই লুট দীর্ঘদিন ধরে রুটিন মুভমেন্ট লক্ষ্য করে পরিকল্পনা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ভ্যানের পিছনের দরজা খুলে পদ্ধতিগতভাবে নগদ গাড়িতে তোলার ধরনে মনে হচ্ছে, ‘ইনসাইড হেল্প’ বা ভেতরের কারও হাত থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— দুই বন্দুকধারী নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও কেন একটিও গুলি চালানো হলো না? কেন এত সহজে ভ্যানের কর্মীরা দুষ্কৃতীদের কথায় বিশ্বাস করলেন? অভিযুক্তদের অতীত খতিয়ে দেখছে পুলিশ।