স্কুলে ‘গুড টাচ, ব্যাড টাচ’ শেখার পরই ফাঁস হয় বাবার কুকীর্তি! নিজের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত, একইসঙ্গে কাটবে ৪০ বছরের সাজা

কেরল। সম্পর্কের পবিত্রতা ও সমাজের কল্পনাকে গুলিয়ে দেওয়া এক পৈশাচিক ঘটনায় কঠোরতম রায় শোনাল কেরলের মাঞ্জেরি পকসো আদালত। নিজের ১১ বছরের নাবালিকা কন্যাকে লাগাতার ধর্ষণের দায়ে ৪৬ বছর বয়সী বাবাকে ১৭৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, এই ঘটনা সমাজের বাবা-মেয়ের সম্পর্কের রসায়নকেই প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।
কীভাবে ফাঁস হলো ঘটনা?
ঘটনাটি ২০২২ সালের জুন মাস থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে ঘটেছে। অভিযুক্ত বাবা তিনবার নিজের ঘুমন্ত মেয়েকে ধর্ষণ করে। মাঞ্জেরি পকসো আদালতের আইনজীবী সোমসুন্দরমের তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের কথা প্রকাশ করলে অভিযুক্ত তার মেয়েকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। ভয়ে ১১ বছরের মেয়েটি দীর্ঘ সময় ধরে এই পৈশাচিক ঘটনা চেপে রাখে।
নির্যাতিতার মা তিনবারই এই ঘটনার আঁচ পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নিজের স্বামীকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। যখন তিনি স্বামীকে সন্দেহবশত জিজ্ঞাসা করেন, তখন অভিযুক্ত উল্টে তর্ক করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
ঘটনার মোড় ঘোরে যখন মেয়েটি স্কুলে পৌঁছয়। এক শিক্ষিকার নজরে আসে নাবালিকার যৌনাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ। প্রথমে ঋতুস্রাব ভেবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, মেয়েটি চিকিৎসকের কাছে জানায়— বাবা অজান্তেই তার তলপেটে আঘাত করেছেন, তাই রক্তপাত হচ্ছে।
‘গুড অ্যান্ড ব্যাড টাচ’ ক্লাস ও পুলিশের তৎপরতা:
এর কিছুদিন পর, স্কুলে ‘গুড অ্যান্ড ব্যাড টাচ’ বিষয়ে শেখানো হচ্ছিল। তখনই মেয়েটি তার শ্রেণি শিক্ষিকার কাছে ধর্ষণের কথা প্রকাশ করে। তৎক্ষণাৎ ওই শিক্ষিকা কেরলের মালাপ্পুরাম জেলার আরিকোড পুলিশকে পুরো ঘটনাটি জানান। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে মামলা দায়ের করে এবং মায়ের উপস্থিতিতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে।
১৭৮ বছরের সাজা ও ‘সিরিয়াল অফেন্ডার’:
মাঞ্জেরি পকসো আদালত গতকাল, অর্থাৎ ঘটনার সাড়ে তিন বছরের মাথায় এই রায় ঘোষণা করে। সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, পকসো আইনের একাধিক ধারায় (ধর্ষণ, ভয় দেখানো) ৪০ বছর করে ১২০ বছরের কারাদণ্ড এবং আইপিসি’র বিভিন্ন ধারা অনুসারে মোট ১৭৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে, আইন অনুযায়ী এই সব সাজা একইসঙ্গে ভোগ করা হবে। অর্থাৎ, ১৭৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড কমিয়ে ৪০ বছর করা হবে।
প্রসঙ্গত, এই অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ‘সিরিয়াল অফেন্ডার’। সে এর আগেও অন্য একটি ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ২০২১ সালের সেই ঘটনায় একজন বিশেষভাবে সক্ষম প্রতিবেশীকে ধর্ষণের অভিযোগে সে জেলে ছিল। জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি আসার পরই সে তার নিজের মেয়েকে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ ঘটায়।