আরশোলা বিলুপ্ত হলে ঘোর বিপদ! এই ‘ঘৃণ্য পোকা’ই কীভাবে মাটির উর্বরতা ও খাদ্য শৃঙ্খল বাঁচায়, জানাল গবেষণা

আরশোলাকে আমরা অনেকেই অপছন্দ করি, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ‘বিরক্তিকর’ পোকাটি বিলুপ্ত হয়ে গেলে পুরো পৃথিবীর ইকো-সিস্টেম (Eco-system) গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বে। সম্প্রতি প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেস (PNAS)-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আরশোলা বা তেলাপোকা আবর্জনা ভেঙে মাটিতে নাইট্রোজেন (Nitrogen) ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সচল রাখে। তাদের শরীরে থাকা ব্লাটাব্যাক্টেরিয়াম (Blattabacterium) নামক ব্যাকটেরিয়া এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে। তারা নাইট্রোজেনকে পুনর্ব্যবহার করে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে রূপান্তরিত করে। এই কারণেই তারা অত্যন্ত কঠিন পরিবেশেও টিকে থাকে এবং এমন অঞ্চলে ইকো-সিস্টেমে ভারসাম্য বজায় রাখে, যেখানে অন্যান্য পোকার অস্তিত্ব থাকে না।

খাদ্য শৃঙ্খল ও মাটির উর্বরতা রক্ষা:

আরশোলার বিলুপ্তি হলে তার উপর নির্ভরশীল টিকটিকি, ব্যাঙ এবং পাখির খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়বে। এর পাশাপাশি, আরশোলাদের একটি বড় অংশ ঘন জঙ্গলে বাস করে। তারা পড়ে থাকা গাছ, পাতা, পচা গাছপালা এবং কাঠ চিবিয়ে ছোট ছোট কণিকায় পরিণত করে। এই প্রক্রিয়া জঙ্গলের মাটিতে নাইট্রোজেন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান ফিরিয়ে দেয়, যা মাটির উর্বরতা বজায় রাখে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, আরশোলা বিলুপ্ত হয়ে গেলে জঙ্গলের মাটিতে জৈব আবর্জনার একটি স্তর জমা হতে থাকবে, ভাঙনের গতি ধীর হবে এবং মাটির উর্বরতা কমতে শুরু করবে। ধীরে ধীরে দুর্বল হবে গাছের বৃদ্ধি, যা সরাসরি কৃষিকাজের উপর চাপ বাড়াবে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, আরশোলার বিলুপ্তি গোটা ইকো-সিস্টেমের জন্য একটি গুরুতর সতর্কতা হবে, যা মাটির গুণমান, জঙ্গলের উৎপাদন এবং ছোট জীব-জন্তুর অস্তিত্বের উপর গভীর আঘাত হানবে।