একা থাকলে বা ভিড়েও নিজের মনে কথা বলেন কি? গবেষণায় প্রমাণিত, যারা নিজের সঙ্গে কথা বলেন, তারাই বেশি মেধাবী ও সফল!

আপনি কি একা থাকলে কিংবা মানুষের ভিড়েও নিজের সঙ্গে, নিজের মনে কথা বলার অভ্যাস রাখেন? গবেষকরা বলছেন, এই অভ্যাসটি মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত চমৎকার একটি সুফল বহন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজের সঙ্গে কথা বলেন, তারা অন্যদের তুলনায় বেশি মেধাবী হন এবং জীবনে দ্রুত সফল হন। তাই আপনিও এই অভ্যাসটি করতে পারেন।
এক্সপেরিমেন্ট সাইকোলজি জার্নালে মনোবিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল সুইগলি ও গ্যারি লুপিয়া তাদের পরীক্ষায় দেখিয়েছেন যে, নিজের সাথে কথা বলা সত্যিই উপকারী। ২০ জন ব্যক্তির ওপর করা এই পরীক্ষায় দেখা যায়, যারা কোনো জিনিস খোঁজার আগে সেটির নাম মনে রেখে নিজের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তারাই দ্রুত সফলতা পেয়েছিলেন।
নিজের সঙ্গে কথা বলার ৩টি প্রধান সুফল জেনে নিন:
১। লক্ষ্য স্থির করে: আমাদের মাথায় একইসঙ্গে অনেক চিন্তা কিলবিল করে। কিন্তু কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে নিজের সঙ্গে কথা বললে অপ্রয়োজনীয় চিন্তাগুলো বাদ পড়ে যায়। এতে ওই চিন্তার লক্ষ্য স্থির করা এবং সেটি বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। নিজের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মনকে ফোকাস করা যায়।
২। রাগ দূর করে: রাগ মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা, যা নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় প্রকাশ পায়। যদি খুব বেশি রাগ হয় এবং সবকিছু ভেঙে ফেলার ইচ্ছে জাগে, তখন অন্যের কথায় কান না দিয়ে একা একটি কক্ষে বসে নিজের সঙ্গেই আলাপ করুন। কী নিয়ে রাগ করেছেন, কেন রাগ করেছেন—এই বিষয়ে নিজের সঙ্গে কথা বলুন। কিছুক্ষণ কথা বলার পরে রাগ অনেকটাই কমে যাবে। এটি মানসিক চাপ কমানোর একটি কার্যকরী কৌশল।
৩। আত্মবিশ্বাসী করে তোলে: নিজের সঙ্গে কথা বলা মানুষেরা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হন। তারা যেকোনো কাজ খুব দ্রুত শেষ করতে পারেন এবং নিজের কাজের মাধ্যমেই অন্যদের থেকে অনেকটা এগিয়ে থাকেন। এই অভ্যাস তাদের সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে এবং যেকোনো নতুন পরিবেশে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।