পাটনা: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর থেকেই শুরু হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে জল্পনা। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দশমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন নীতীশ কুমার। আগামী ২০ নভেম্বর পটনার ঐতিহাসিক গান্ধি ময়দানে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এনডিএ শিবির এই অনুষ্ঠানকে ‘এযাবৎ কালের বৃহত্তম শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান’ হিসেবে দাবি করছে। সেই লক্ষ্যে গান্ধি ময়দানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি চলছে। অতিথিদের জন্য সেখানে তৈরি করা হচ্ছে একটি বিশাল জার্মান হ্যাঙ্গার, যার ধারণক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার লোক। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০ হাজার চেয়ার বসানো হচ্ছে। পটনার জেলাশাসক এস এম ত্যাগরাজন মাঠ পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটিকে ঐতিহাসিক করে তোলার জন্য যাবতীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।
২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় এনডিএ জোট ২০২টি আসনে জয়লাভ করেছে। জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে নীতীশ কুমারই জোটের নেতৃত্ব দেবেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মঙ্গলবার বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকের পর এনডিএ-র যৌথ বৈঠকে করা হবে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও এনডিএ-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। ভিভিআইপিদের উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। সোমবার বোম্ব স্কোয়াডের দল পুরো গান্ধি ময়দান পরিদর্শন করেছে এবং ২০ নভেম্বর পর্যন্ত এই এলাকা জনসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, শপথের আগে সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি সরাসরি রাজভবনে যান এবং রাজ্যপালের কাছে ১৯ নভেম্বর বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব জমা দেন। রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী এদিন পদত্যাগ করেননি, তিনি ১৯ নভেম্বর পদত্যাগ করে সেদিনই নতুন সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। গান্ধি ময়দানে চলছে সবুজ কার্পেট বিছানোর কাজ এবং অতিথিদের জন্য ১৫০০টি সোফা-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে ফুল আমদানির মাধ্যমে জমকালো সজ্জার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।