আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বয়ান রেকর্ড করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর জন্য তাঁকে যেখানে রাখা হয়েছে, সেই প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে গিয়ে তাঁর বয়ান নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সন্দীপ ঘোষের বয়ান রেকর্ড করতে ইডি বিচার ভবনের ইডি বিশেষ আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে। Prevention of Money Laundering Act, 2002 (PMLA)-এর ৫০ নম্বর ধারার অধীনে বয়ান রেকর্ডের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
ইডির আবেদন অনুযায়ী, সন্দীপ ঘোষের বক্তব্য মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই সরাসরি সংশোধনাগারে গিয়ে তাঁর বয়ান নেওয়ার অনুমতি প্রয়োজন। আদালতের অনুমতির পরই ইডি সংশোধনাগারে গিয়ে বয়ান রেকর্ডের প্রক্রিয়া শুরু করবে। সূত্রের খবর, আগামী ১৪ ডিসেম্বর ইডি আদালতে প্রগ্রেস রিপোর্ট পেশ করবে, যেখানে বয়ান রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্যও জমা দেওয়া হবে।
সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে নির্যাতিতার মায়ের ক্ষোভ:
অন্যদিকে, আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ফের একবার সিবিআইয়ের তদন্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন নির্যাতিতার মা। শিয়ালদহ আদালতে দাঁড়িয়ে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে তিনি ফের অভিযোগ তুলে বলেন, “ওরা নির্লজ্জ।” তাঁর বক্তব্য শোনার পর আদালতকক্ষ থেকে বেরিয়ে সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং কেঁদেও ফেলেন। অফিসার পরে বলেন, “আমিও মা।”
ওই দিন সিবিআই শিয়ালদহ আদালতে মামলার সপ্তম ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ জমা দিয়েছিল। নির্যাতিতার মা আদালতে গোপন জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি। ওই দিন সিবিআইকে কেস ডায়েরি জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।