বিহার বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর এবার পরিবার ও দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের কন্যা রোহিনী আচার্য। শনিবার বিকেলে পাটনা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের দাদা তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে অভিযোগের তির ছুড়লেন এবং নাম নিলেন এক রহস্যময় ব্যক্তির— ‘রামিজকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন’। এই রামিজকে ঘিরেই অসন্তোষের চরম সীমায় পৌঁছে দল ও পরিবার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন রোহিনী।
কী বলছেন যাদব কন্যা রোহিনী আচার্য?
বিহার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি বিস্ফোরক বার্তা পোস্ট করেন লালুপ্রসাদের মেয়ে রোহিনী আচার্য। সেখানে তিনি লেখেন, “আমি রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছি এবং পরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছি। ঠিক এটাই আমাকে বলেছেন সঞ্জয় যাদব ও রমিজ। এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিজেই নিচ্ছি।” রোহিনীর এই বার্তায় স্পষ্টতই দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির দিকেই তাঁর ক্ষোভের ইঙ্গিত।
কে এই রহস্যময় রামিজ?
জানা গিয়েছে যে, উত্তর প্রদেশের নেপাল সীমান্ত লাগোয়া বালরামপুর জেলার প্রাক্তন সাংসদ রিজওয়ান জাহিরের জামাই হলেন এই রামিজ। তাঁর বাবার নাম নিয়ামতুল্লাহ খান। রামিজের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি বালরামপুরের তুলসীপুর নগরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ফিরোজ ‘পাপ্পু’ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত। ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি গুলি করে হত্যা করা হয় পাপ্পুকে।
সূত্রের খবর, তুলসীপুরের চেয়ারপার্সন পদে নিজের মেয়ে জেবা রিজওয়ানকে বসাতে চাইছিলেন রিজওয়ান জাহির। কিন্তু ফিরোজ আহমেদ ও পাপ্পু নাকি অন্য প্রার্থীকে জয়ী করতে সহায়তা করেন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের চক্রান্ত গড়ে উঠেছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
রামিজের বিরুদ্ধে আর কী অভিযোগ?
পুলিশ সূত্রে খবর, পাপ্পু হত্যা মামলায় বর্তমানে ললিতপুর জেলে বন্দি রয়েছেন রিজওয়ান জাহির। এই অভিযোগে পুলিশ জেবা রিজওয়ান, তাঁর স্বামী রামিজ নেয়ামত এবং জাহিরকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছিল। যদিও রামিজ ও জেবা বর্তমানে জামিনে মুক্ত। এছাড়া রামিজের বিরুদ্ধে তুলসীপুর (বলরামপুর) এবং কৌশাম্বী জেলার কোখরাজ থানায় খুনসহ গ্যাংস্টার অ্যাক্টে মোট ১২টি ফৌজদারি মামলা দায়ের রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রোহিনী আচার্য পেশায় একজন চিকিৎসক। তিনি খুব বেশিদিন রাজনীতিতে ছিলেন না। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রোহিনী বিহারের সারন কেন্দ্র থেকে আরজেডি প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে তিনি বিজেপি প্রার্থী রাজীব প্রতাপ রুডির কাছে হেরে যান। এবার তিনি দল ও পরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানিয়েছেন, যার নেপথ্যে এই বিতর্কিত রামিজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।