দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Delhi Blast) পাঁচ দিন পর অবশেষে পর্যটকদের জন্য সুখবর। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI) শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ১৬ নভেম্বর, অর্থাৎ রবিবার থেকে লালকেল্লা (Red Fort) আবার খুলে দেওয়া হচ্ছে। গত সোমবার লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর কাছে বিস্ফোরণের পর পুলিশি তদন্ত ও সুরক্ষার কারণে এই ঐতিহাসিক স্থানটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ওই বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং বহু মানুষ আহত হন।
এদিকে, শনিবারই দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) ঘোষণা করেছে যে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ২ ও ৩ পুনরায় যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের পর বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য চার দিন আগে এই গেট দুটি বন্ধ করা হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)-এর অনুরোধে গত ১১ নভেম্বর ASI লালকেল্লা বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সন্দেহ, এটি ছিল বহু শহরে একযোগে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনার অংশ, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি ‘ইন্টার-স্টেট হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’ (White Collar Terror Ecosystem)।
তদন্তের পরিধি এখন জম্মু-কাশ্মীর, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ডাঃ উমর নবি-সহ ডাঃ মুজাম্মিল আহমেদ গনাই এবং ডাঃ শাহিন শাহিদ—এই তিনজন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ, ডাঃ উমর নবিই বিস্ফোরক বোঝাই হুন্ডাই আই২০ (Hyundai i20) গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।
পুলিশ সূত্রের দাবি, এই চক্রটি ২৬ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ জোগাড় করেছিল এবং প্রায় ২৬ কুইন্টাল এনপিকে সার কিনে আইইডি (IED) তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তদন্তে সহায়তা করতে নেমেছে NIA এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত আরও তিন চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সন্ধে ৬টা ৫২ মিনিটে, লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ট্রাফিক সিগন্যালের সামনে গাড়িটি থামতেই বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে আগুন ধরে যায় আশপাশের ছ’টি গাড়ি, দু’টি ই-রিকশা, একটি অটো এবং একটি ডিটিসি বাসে। পুরো ঘটনাটি কেন্দ্র করে এখনও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত জারি রয়েছে।