ভারতের অধিনায়ক শুভমন গিলের ঘাড়ের চোট কি প্রত্যাশার চেয়েও গুরুতর? দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর ইডেনে দেখা গেল নাটকীয় ছবি। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে টিম ইন্ডিয়া ক্যাপ্টেনকে স্ট্রেচারে শুইয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন গিলের ঘাড়ে কলার ব্যান্ড লাগানো ছিল। এই ঘটনায় দ্বিতীয় টেস্টে ভারত অধিনায়কের খেলা নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।
শুক্রবার ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার দুই টেস্টের সিরিজের প্রথমটি শুরু হয়েছে ইডেনে। আর দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ভারত। ওয়াশিংটন সুন্দর আউট হওয়ার পর চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন অধিনায়ক গিল। কিন্তু মাত্র তিন বল খেলেই চোট পান তিনি। সাইমন হারমারকে সুইপ করে বাউন্ডারিতে পাঠানোর পরই যন্ত্রণায় মুখ কুঁচকে যায় শুভমনের।
সঙ্গে সঙ্গে মাঠে আসেন ফিজিও। প্রাথমিক পরীক্ষার পর গিলকে নিয়ে সাজঘরে ফিরে যান ফিজিও। মনে করা হয়েছিল, হয়তো পরে প্রয়োজনে তিনি ফের ব্যাট করতে নামবেন। কিন্তু ভারতীয় দল মাত্র ১৮৯ রানে ৯ উইকেট হারালেও অধিনায়ক গিল আর ক্রিজে ফেরেননি।
এমনকী, দক্ষিণ আফ্রিকা যখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে, তখন ফিল্ডিংয়েও অনুপস্থিত ছিলেন ভারত অধিনায়ক। তখনই বোঝা গিয়েছিল, চোটটা ছোটখাটো নয়। দিনের খেলা শেষে যখন মাঠ ফাঁকা এবং পিচ ঢাকা, ঠিক তখনই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গিলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে ভারত দলের সহকারী কোচ মর্নি মরকেল আঘাতটির গভীরতা কমিয়ে দেখাতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, “শুভমন গিলের ঘাড়ে যেভাবে ব্যথা হয়েছে, সেটা সম্ভবত বাড়তি চাপের কারণে নয়। হয়তো রাতে ঘুম ঠিকমতো হয়নি। গিল খুব ফিট খেলোয়াড়, নিজের শরীরকে ভালোভাবে ম্যানেজ করেন। দুর্ভাগ্য, ম্যাচের সকালে ঘাড় শক্ত নিয়ে উঠেছিল এবং সেটা ব্যাটিংয়েও প্রভাব ফেলেছে।”
আইপিএলে চার বছর কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলা শুভমন অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার ইডেনে নামেন। ইংল্যান্ড সফরে দারুণ ফর্মে থাকায় ইডেন তাঁর থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু মাত্র তিন বলেই সব প্রত্যাশায় ধাক্কা লাগে। এই মুহূর্তে ব্যাট-বলকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন শুভমন গিলের ঘাড়ের চোটের গভীরতা।