গরম আবহাওয়ায় শরীর থেকে ঘাম ঝরা স্বাভাবিক। ঘাম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং এর মাধ্যমে অতিরিক্ত জল, লবণ ও দূষিত পদার্থ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা দেখা দেয়, যা হাইপারহাইড্রোসিস (Hyperhidrosis) নামক শারীরিক অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে হাতের তালু ও পায়ের পাতায় অতিরিক্ত ঘাম হলে এই নামটি ব্যবহার করা হয়। গরম ছাড়া ঘামা অথবা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘামা কিন্তু বড়সড় রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে।
অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার কারণসমূহ
অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার পেছনে কিছু জীবনশৈলী ও শারীরিক কারণ থাকতে পারে:
মানসিক চাপ ও উদ্দীপনা: অতিরিক্ত ব্যায়াম, নার্ভাস হওয়া, বা পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত মানসিক চাপ (Stress) থেকে বেশি ঘাম হতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত মশলাযুক্ত, ঝাল বা তৈলাক্ত খাবার খেলে ঘাম বেশি হতে পারে। এছাড়াও, আয়োডিনযুক্ত খাবার (যেমন ব্রোকোলি, পেঁয়াজ) এবং খাবারে অতিরিক্ত লবণও ঘাম বাড়াতে পারে।
শারীরিক দুর্বলতা: শরীরের দুর্বলতা থেকেও ঘাম বেশি হতে পারে।
নেশা: অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপানও ঘামের কারণ হতে পারে।
প্রসাধনী ভুল ব্যবহার: পাউডার ব্যবহার ঘাম দূর করার পরিবর্তে তা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ভিটামিন B12-এর অভাব: চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন বি-১২-এর অভাবেও হাইপারহাইড্রোসিস হতে পারে।
থাইরয়েডের সমস্যা: অতিরিক্ত ঘাম থাইরয়েড-সহ অন্যান্য গুরুতর শারীরিক রোগের লক্ষণ হতে পারে।
অতিরিক্ত ঘামলে করণীয় 💧
ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, বাইকার্বোনেট বেরিয়ে যাওয়ায় শরীর দুর্বল ও অস্থির হয়ে পড়ে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চলা জরুরি:
জল ও লবণ মিশ্রিত শরবত: ঘামের ক্ষতিপূরণের জন্য জলের সঙ্গে লবণ ও লেবু মিশিয়ে শরবত খান। এটি শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটসের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ঠান্ডা পানীয়: গরমে দইয়ের ঘোল ও ডাব খেতে পারেন। এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে।
টাটকা ফলের রস: কোল্ড ড্রিংকসের পরিবর্তে টাটকা ফলের রস খান।
ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স: যেহেতু ভিটামিন বি-১২-এর অভাবে হাইপারহাইড্রোসিস হতে পারে; তাই বি-কমপ্লেক্স যুক্ত খাবার (যেমন দুধ, মাছ, ডিম, কলিজা) খাদ্যতালিকায় যোগ করুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি গরম ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম হয় বা সমস্যাটি ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তবে অবশ্যই একবার রক্ত পরীক্ষা করে দেখুন থাইরয়েড বা অন্য কোনো গুরুতর শারীরিক সমস্যা আছে কি না।