দিল্লির লালকেল্লার সামনে সোমবারের বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, শুধুমাত্র একটি বা দুটি নয়, প্রায় ৩২টি গাড়িতে বিস্ফোরক বোঝাই করে দেশজুড়ে সিরিয়াল ব্লাস্টের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল আগামী ৬ ডিসেম্বর দিল্লির ৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিস্ফোরণ ঘটানো, যা বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বদলা হিসেবে করা হতো বলে জানা গেছে।
তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই আই ২০ (Hyundai i20) ছাড়াও আরও তিনটি গাড়িকে চিহ্নিত করেছেন: মারুতি সুজুকি ব্রেজা (Maruti Suzuki Brezza), মারুতি সুইফট ডিজায়ার (Maruti Swift Dzire) এবং একটি ফোর্ড ইকোস্পোর্ট (Ford EcoSport)। এই গাড়িগুলি বিস্ফোরক বহন এবং বোমা সরবরাহের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
চিহ্নিত গাড়িসমূহ ও মূল কেন্দ্রবিন্দু:
ব্রেজা (HR87 U 9988): এই গাড়িটি আল ফালাহ ক্যাম্পাস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু বলে মনে করা হচ্ছে।
লাল ইকো স্পোর্ট: বুধবার ফরিদাবাদের একটি খামারবাড়ি থেকে এই গাড়িটি উদ্ধার হয়। গাড়ির পেছনের সিটে ঘুমন্ত অবস্থায় এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার সামনে হুন্ডাই আই ২০ গাড়িতে উচ্চমানের বিস্ফোরক পদার্থ এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জ্বালানি তেলের মিশ্রণ ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। গাড়ির মালিক হিসেবে পুলওয়ামার চিকিৎসক উমর নবীকে চিহ্নিত করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে উমর নবীই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, বিস্ফোরণে ব্যবহারের জন্য মূলত হাতবদল হওয়া গাড়িকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল, যাতে সহজেই আসল চক্রকে আড়াল করা যায়। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।