বর্ষা ও স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় এডিস ইজিপ্টাই মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে ফ্লু-এর মতো উপসর্গ (প্রচণ্ড জ্বর, পেশী ও গাঁটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা) দেখা দেয়। মারাত্মক ক্ষেত্রে রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়া, রক্তক্ষরণ ও প্লাজমা লিকেজের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই রোগ থেকে সেরে উঠতে মশা তাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
যদিও ডেঙ্গুর সম্পূর্ণ প্রতিরোধের জন্য এখনও কোনো ভ্যাকসিন নেই, তবুও কিছু খাবার আছে যা রোগীকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করতে পারে। এখানে ডেঙ্গু থেকে সেরে উঠতে সাহায্যকারী তেমনই ৫টি খাবারের সন্ধান দেওয়া হলো:
১. পোরিজ (Porridge): পোরিজ সহজে হজমযোগ্য এবং শরীরের ভেতর থেকে শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা কার্যকরী পুষ্টি উপাদান ভাইরাসকে দূরে রাখতে কাজ করে। তাই দুর্বলতা কাটাতে ডেঙ্গু রোগীর খাদ্যতালিকায় পোরিজ রাখা উচিত।
২. ব্রোকলি (Broccoli): ভিটামিন কে এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলী সমৃদ্ধ ব্রোকলি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে কাজ করে। এই সবুজ সবজি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
৩. কিউই ফল (Kiwi Fruit): কিউই ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই এবং পটাশিয়াম থাকে। এই উপাদানগুলি শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও, কপার সমৃদ্ধ এই ফল রক্তে লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।
৪. ডাবের জল (Coconut Water): ডেঙ্গু রোগের প্রধান জটিলতাগুলির মধ্যে অন্যতম হলো জল শূন্যতা (Dehydration)। ডাবের জল এই ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। এতে সমস্ত প্রয়োজনীয় খনিজ (Minerals) ও ইলেক্ট্রোলাইটস (Electrolytes) বিদ্যমান, যা খেলে তা শরীরে জলের ঘাটতি দূর করতে কাজ করে।
৫. বেদানা (Pomegranate): বেদানায় থাকে প্রচুর আয়রন, যা রক্তের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায় এবং রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সহায়ক। বেদানা খেলে ডেঙ্গুর কারণে সৃষ্ট ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতেও সাহায্য পাওয়া যায়।